ঢাবির হলে পিটিয়ে যুবককে হত্যা: ২ শিক্ষার্থী আটক
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল নামের এক যুবককে কয়েক দফা মারধর করে হত্যার ঘটনায় ওই হলের দুজন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে এই দুজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। শাহবাগ থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃত শিক্ষার্থীরা হলেন-পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের জালাল আহমেদ এবং মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সুমন।
এর আগে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবককে কয়েকদফা মারধর করে হত্যার ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় অভিযোগটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ৷ পরে এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে শাহবাগ থানা পুলিশ।
এর আগে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত পৌনে আটটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠে হলটির কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
পরে এই ঘটনায় তদন্ত করার জন্য ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. আলমগীর কবীরকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিউল আলম খান, অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান, মো. মাহাবুব আলম, ড. আছিব আহমেদ, সহকারী আবাসিক শিক্ষক ড. এম এম তৌহিদল ইসলাম ও বিজ্ঞান অনুষদের সহকারী প্রক্টর এ. কে. এম. নূর আলম সিদ্দিকী।
চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবককে মারধর করে মেরে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ। তিনি আরো বলেন, যুবক মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শৃঙ্খলা কমিটি দায়ীদের শাস্তি দেবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন ব্যানারে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
