ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ে রেকর্ড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদযাত্রার ঈদের আগের চার দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৭৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১৮ কোটি ৪ লাখ ৮ হাজার ২০০ টাকা।
এই সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেতু কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় এবং সেতুর উভয় প্রান্তে মোট ১৯টি টোল বুথ সার্বক্ষণিক সচল রাখে। ফলে যাত্রীরা স্বস্তি ও নিরাপদভাবে সেতু পার হতে পেরেছেন।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ৩টার দিকে পদ্মা সেতুর সাইট অফিস থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সেতু কর্তৃপক্ষের টোল রিপোর্ট অনুযায়ী, ঈদযাত্রার শেষ দিন বুধবার (২৭ মে) ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ হাজার ৭৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ওই দিনে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত মিলিয়ে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসি মাধ্যমে মোট টোল আদায় হয় ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ২০০ টাকা। এর আগের দিন মঙ্গলবার (২৬ মে) ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয় ৫ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা, যা সেতু চালুর পর টোল আদায়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।
আরো পড়ুন : যমুনা সেতুতে ৪ দিনে ১৪ কোটি টাকার টোল আদায়
সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা। রোববার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৯৮৫টি যানবাহন পারাপার হয়। ওই দিনে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসি মিলিয়ে মোট টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৮৪ লাখ ১৭ হাজার ২০০ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি যানবাহন সেতু পার হলেও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যকর দিকনির্দেশনা এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে পুরো ঈদযাত্রা ছিল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ। এর ফলে এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের দক্ষতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ঈদের দিন টোল প্লাজাগুলো তুলনামূলকভাবে ফাঁকা ছিল বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, আগেভাগেই টোল প্লাজায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়। এছাড়া আধুনিক ক্যাশলেস ‘ডি-টোল’ সুবিধা এবং দুই প্রান্তে ১৯টি টোল বুথ সচল রাখার কারণে এবারের ঈদুল ফিতরের মতো ঈদযাত্রাও স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হয়েছে।
