×

অর্থনীতি

বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কমানোর দাবি গণশুনানিতে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কমানোর দাবি গণশুনানিতে

ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানিতে অংশীজনরা ভোক্তার ওপর নতুন চাপ না বাড়িয়ে ব্যয় কমানোর পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের কেউ কেউ বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতকে মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। আবার অনেকে ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস, প্রকল্প ব্যয় ও অদক্ষতার বোঝা ভোক্তার ওপর না চাপানোর দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তন সংক্রান্ত গণশুনানির শেষ দিনে খুচরা ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। শুনানির সভাপতিত্ব করেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

শুনানিতে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকো তাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির উপস্থাপনায় বলা হয়, ছয় বিতরণ সংস্থা প্রতি ইউনিটে বিতরণ ব্যয় ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত ধরেছে। ভারিত গড়ে নিট বিতরণ ব্যয় দাঁড়ায় প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২৫ পয়সা।

পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকোর হিসাবেও বিতরণ ব্যয়ে ভিন্নতা দেখা যায়।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে এসব সংস্থার মোট নিট বিতরণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা। এ সময়ে বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৬১৩ মিলিয়ন ইউনিট।

শুনানিতে বিভিন্ন অংশীজন বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ও হিসাব উপস্থাপনার ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, কোটি ও মিলিয়ন একসঙ্গে ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। একই সঙ্গে তিনি রেট অব রিটার্ন ও করপোরেট ট্যাক্স যুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানান।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বদলে কীভাবে কমানো যায়, সেই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি দরিদ্র গ্রাহকদের জন্য নির্দিষ্ট ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, দাম বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাও থাকা জরুরি। ক্যাপাসিটি চার্জ ও চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জেবউননেসা বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলোর অদক্ষতা ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানো ছাড়া শুধু ট্যারিফ বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা সিস্টেম লস ও অতিরিক্ত চার্জ পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান। তারা জানান, বড় শিল্প গ্রাহকরা নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি করলেও তাদের ওপর অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হয়।

শুনানিতে জ্বালানি খাতের পর্যবেক্ষকরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকনির্দেশনার অভাবের কথাও তুলে ধরেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ খাত সংস্কার ছাড়া ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষা সম্ভব নয়।

শুনানি শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সব মতামত ও তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি জানান, আগামী ২৩ মে ২০২৬ পর্যন্ত লিখিত মতামত জমা দেওয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকল্পগুলো বিইআরসির মতামত ছাড়া পরিকল্পনা পর্যায়ে না নেওয়ার বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থান নেবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘মহাসড়কে চাঁদাবাজি’, ববি ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

‘মহাসড়কে চাঁদাবাজি’, ববি ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মুম্বাইয়ের যে 'ভুল পদক্ষেপ' একটি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করল

মুম্বাইয়ের যে 'ভুল পদক্ষেপ' একটি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করল

৪৮ দলের বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় ৬৬ দলের আসর

৪৮ দলের বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় ৬৬ দলের আসর

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App