আইএমএফের হিসাবে দেশের রিজার্ভ এখন কত, জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৯:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আবারো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুনের আমদানি বিল ১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর তা এ পর্যায়ে নেমে আসে।
বুধবার (১০ জুলাই) নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে (ফেড) থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে এই দায় সমন্বয় করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) স্বীকৃত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে, দেশের রিজার্ভের স্থিতি ছিল ২ হাজার ১৭৮ কোটি বা ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। আকুর দায় শোধের পর তা ২ হাজার ৪৬ কোটি বা ২০ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমে এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এটিও প্রকৃত রিজার্ভ নয়। গ্রস রিজার্ভ থেকে আইএমএফের পাওনাসহ সব দায় বাদ দিলে নিট রিজার্ভের পরিমাণ আরও নিচে নেমে যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ইতোমধ্যে নিট রিজার্ভ নেমেছে ১৫ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। গত ৪ জুলাই তা ছিল ১৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন।
তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৬৮১ কোটি বা ২৬ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। এখান থেকে আকুর দায় বাদ দিলে এ রিজার্ভের স্থিতি দাঁড়ায় ২ হাজার ৬১৭ কোটি বা ২৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।
জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের উদ্যোগে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় আকু। এশীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের ভৌগোলিক সীমারেখায় অবস্থিত সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য আকুর সদস্যপদ উন্মুক্ত। এর সদরদপ্তর ইরানের রাজধানী তেহরানে।
বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ-এই নয়টি দেশ আকু সদস্য ছিল। তবে রিজার্ভ সঙ্কটে পড়ে ২০২২ সালের অক্টোবরে এখান থেকে বেরিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। আকুর সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যে আমদানি-রপ্তানি করে, সেটার দেনা ২ মাস পর পর সমন্বয় করে।
এর আগে গত জুনের শেষের দিকে ধার করে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চায়ন বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেসময় আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ যেমন এসেছে, তেমনই আরো কয়েকটি উৎস থেকে ডলার যোগ হয়েছে।
তাতে দেশের আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার হিসাবে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ৬৫০ কোটি বা ২৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফ স্বীকৃত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ২২ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল।
