×

ঢাকা

উত্তরের ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা-যমুনা সেতু অংশে যানজটের শঙ্কা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

উত্তরের ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা-যমুনা সেতু অংশে যানজটের শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

ঈদ এলেই দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কে পরিণত হয় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। কোরবানির পশুবাহী যানবাহন ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় প্রতিবছরের মতো এবারও এই মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত চার লেন উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন যাত্রী ও চালকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ঈদে যমুনা সেতু দিয়ে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যানবাহন পারাপার হতে পারে। মহাসড়কের এলেঙ্গা এলাকায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার, চলমান চার লেন উন্নয়নকাজ, বৃষ্টি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে যানজটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবছর ঈদে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪ জেলার লাখো মানুষ এই মহাসড়ক ব্যবহার করেন। অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদের সময় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগের একমাত্র প্রধান পথ হওয়ায় এই মহাসড়কে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। টাঙ্গাইল অংশে মহাসড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ কিলোমিটার।

এদিকে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের কাজ কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি। এলেঙ্গা এলাকায় ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নকাজ চলায় স্বাভাবিক সময়েও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

বাসযাত্রী আলমগীর কবির বলেন, “চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত গাড়ি স্বাভাবিক গতিতেই চলে। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত গতি কমে যায়। ঈদের সময় তো কথাই নেই, তখন যানবাহনের চাপ দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়ে যায়। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করা উচিত। পরিবার আগেই গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি।”

বাসচালক গফুর মিয়া বলেন, “এখন মহাসড়কে যানবাহন স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তবে ঈদের ৪-৫ দিন আগে চাপ বেড়ে যায়। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত সমস্যা না হলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। ফিটনেসবিহীন অনেক গাড়ি মহাসড়কে উঠে আসে। এসব গাড়ি বিকল হলে যানজট তৈরি হয়।”

সাসেক-২ প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, “মহাসড়কের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে পুরো কাজ শেষ হবে। ঈদ উপলক্ষে আগামীকাল থেকেই উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকবে। কাজের জন্য যতটুকু সড়ক দখল করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রস্থ বাড়ানো হয়েছে। এবারে উত্তরবঙ্গগামী মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন। দুর্ঘটনা না ঘটলে বড় ধরনের যানজটের সম্ভাবনা নেই। তবে কোনো গাড়ি বিকল হলে সাময়িক যানজট হতে পারে। মহাসড়কে রেকার প্রস্তুত রাখা হবে।”

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “উভয় পাশে আলাদা মোটরসাইকেল লেনসহ ১৮টি বুথে টোল আদায় করা হবে। গত ঈদে সেতুর ওপর ৫০০ মিটার পরপর জনবল মোতায়েন ছিল, এবার ৩০০ মিটার পরপর লোক রাখা হবে। পশুবাহী গাড়ির জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে দুটি এবং গোলচত্বরে একটি রেকার রাখা হবে।”

তিনি আরো বলেন, “গত ঈদের তুলনায় এবার বেশি যানবাহন পারাপারের সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদুল ফিতরে তেলের সংকট থাকলেও প্রচুর যানবাহন চলাচল করেছে। এবার সে ধরনের সংকট নেই। তবে বৃষ্টি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। টোল প্লাজায় ২৪ ঘণ্টা লোকজন দায়িত্ব পালন করবেন।”

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, “যমুনা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পুরো ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আট শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ফিটনেসবিহীন যান চলাচলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ভারতে অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে ধর্ষণ করলেন চিকিৎসক

ভারতে অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে ধর্ষণ করলেন চিকিৎসক

আরও দুই মাস বাড়ছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আরও দুই মাস বাড়ছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় ফার্নান্দেজ

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় ফার্নান্দেজ

উত্তরের ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা-যমুনা সেতু অংশে যানজটের শঙ্কা

উত্তরের ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা-যমুনা সেতু অংশে যানজটের শঙ্কা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App