বিয়ের চাপ দেওয়ায় মা ও মেয়েকে হত্যা করে পরকীয়া প্রেমিক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালীতলা এলাকায় মা ও পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে বিয়ের চাপ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাহানারা আক্তার (৩০) ও তার মেয়ে সামিয়াকে (৫) হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
রোববার (১৭ মে) ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিন বছর আগে ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা ও উজ্জলের পরিচয় হয়। দুজনই রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক পরকীয়ায় রূপ নেয়।
পরে বিষয়টি ইটভাটায় জানাজানি হলে প্রথমে উজ্জল এবং পরে জাহানারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। তবে বাড়িতে ফেরার পরও তাদের মধ্যে গোপন যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। উজ্জল জাহানারাকে বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরে তা এড়িয়ে যেতে থাকেন।
পুলিশ জানায়, গত ৪ মে জাহানারা তার পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে উজ্জলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উজ্জলের পরামর্শে তিনি ফরিদপুর সদরের চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালীতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে যান। সেখানে বিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। জাহানারা সেদিনই বিয়ে না করলে উজ্জলের বাড়িতে গিয়ে ওঠার হুমকি দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উজ্জল জাহানারার বুকে ঘুষি মারেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে পরে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এ সময় পাশে থাকা শিশু সামিয়া চিৎকার শুরু করলে তাকেও গলা টিপে হত্যা করেন উজ্জল। পরে ঘটনাস্থলের পাশে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ গর্তে পুঁতে কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত উজ্জল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকারটিলা গ্রামের কোলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ঘটনাস্থল থেকে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৫০০ গজ। শনিবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত জাহানারা আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার দক্ষিণ দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কর্নসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শুক্রবার নিহত জাহানারার বাবা লালন মোল্লা বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল বাসার মোল্লা জানান, গ্রেপ্তার উজ্জল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জবানবন্দি না দিলে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের আবেদন করা হবে।
