শিশু তাহাতির মৃত্যু
হাতিরঝিল থানা ঘেরাও, স্থানীয়দের বিক্ষোভ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর হাতিরঝিল পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানি থেকে তাহাতি আক্তার তাসনিম (৬) নামে একটি শিশুর লাশ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে হাতিরঝিল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় জনতা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন।
এসময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ হত্যার ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও পুলিশ উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করার অভিযোগও করেন তারা।
এদিকে একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ পরিবার। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানায় বাবা-মা।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মামলা না নেয়ার অভিযোগকে গুজব বলে দাবি করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। ওসি গোলাম মর্তুজা জানান, রামপুরার উলন রোড এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে ভবনের দারোয়ানকে আটক করে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে তাহাতি। পরিবারটি থাকে পশ্চিম উলন ১২/১/এ নম্বর বাসায়।
শিশুটির চাচা মো. স্বপন মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে তাহাতির মা যখন তারাবির নামাজ পড়ছিলেন, তখন সে বাসা থেকে বাইরে বের হয়েছিল খেলতে। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাবা বাইরে থেকে এসে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে শিশুটিকে পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে তাকে তুলে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জানান যে শিশুটি মারা গেছে। পরে সেখান থেকে লাশটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
তিনি বলেন, আমার ভাতিজি যদি পানিতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার পেট ভর্তি পানি থাকবে। অথচ তার পেটে কোনো পানি নেই। মুখের মধ্যে অনেকটা বিস্কুটের গুঁড়া ছিল। পানি খেলেতো সেগুলো মুখে থাকার কথা না। এ মৃত্যু নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেলেই বোঝা যাবে, সে একা বাসা থেকে বের হয়েছে, নাকি কেউ নিয়ে গেছে।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানান, আজ রাতে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ওই এলাকার আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন থানার সামনে এসে অবস্থান নেন। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখছি। ঘটনার পরপরই আইন অনুযায়ী শিশুর লাশ মর্গে পাঠানো হয় এবং আজ তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
তিনি আরো জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হচ্ছে। মামলায় কোনো আসামির নাম ব্যবহার না করলেও তদন্ত সাপেক্ষে নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।
তবে লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে কোনো রকমের জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
