ভাটারায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ যৌথ জুয়া-বাণিজ্য, নীরব প্রশাসন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ এএম
ছবি: আমান উল্লাহ আমান ওরফে ‘ক্যাসিনো আমান’, মুজিবর রহমান ও দিলীপ দাস ওরফে বিশু
রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার নয়নগর কমিশনার রোডে প্রতিদিন দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে জমজমাট ‘মিনি ক্যাসিনো’ জুয়ার আসর। উঠতি বয়সী কিশোর-যুবক থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ী এমনকি অনেক সরকারি কর্মচারীও অংশ নিচ্ছেন নিষিদ্ধ এই খেলায়, হচ্ছেন সর্বস্বান্ত'।
আর বিস্ময়কর হলেও সত্য, রাজধানীর বুকে ব্যস্ততম এলাকায় এই জুয়ার আসর মিলেমিশে চালাচ্ছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় তিনজন নেতা। এদের মধ্যে আমান উল্লাহ আমান ওরফে ‘ক্যাসিনো আমান’ বাড্ডা থানা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আহ্বায়ক পদে রয়েছেন, আর বাকি দুজন মুজিবর রহমান ও দিলীপ দাস ওরফে বিশু স্থানীয় যুবলীগের পরিচিত মুখ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ থেকে জানা যায় যে, ভাটারা থানাধীন নয়ানগর কমিশনার রোডস্থ আন-নাজাত মাদ্রাসার বিপরীতে, জনৈক জুয়েল মিয়ার বাড়ির নিচতলায় প্রতিদিন বসছে ‘আন্দার বাহার’ নামের এই ক্যাসিনো জুয়ার আসর। তিনতলা এই বাড়িটির হোল্ডিং নম্বর ৩৪৯ নয়ানগর, যার নিচতলায় চলছে এই আসর। বাড়িটির নিচে ‘শাকিল মোবাইল হসপিটাল’ নামে একটি মোবাইল যন্ত্রাংশের দোকানও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়িটি ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর জনৈক বিএনপি নেতা সালাম মুন্সির রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে কিছুদিন ব্যবহার হয়েছিলো।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই জুয়ার আসরে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে টাকার লেনদেন, জুয়ার আসর আর রহস্যময় যাতায়াত।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা পরিবার নিয়ে থাকি। কিন্তু প্রতিদিন এই পরিবেশ দেখে আতঙ্কে থাকি।’
সবচেয়ে বিতর্কিত অভিযোগটি উঠেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘিরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভাটারা থানা পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এখানে। আর জুয়া পরিচালনাকারীরাও গর্বের সঙ্গে ‘থানায় যোগাযোগ’ রয়েছে বলে দম্ভ করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একজনের কাছ থেকে ফোনে অভিযোগ পেয়ে সেখানে টিম পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তারা এমন কোনো জুয়ার আসর খুঁজে পায়নি’।
