বিএনপি নেতা হত্যা : পলকসহ ১২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:০১ এএম
নিহতের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে সিংড়া আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। ছবি : সংগৃহীত
২০১০ সালে রাজশাহীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় যাওয়ার পথে নাটোরের সিংড়ায় হামলা করে আড়াইশ গাড়ি ভাঙচুর ও বিএনপি নেতা জাকির হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ১৪ বছর পর সিংড়ার সাবেক এমপি জুনাইদ আহমেদ পলকসহ তার ১২২ জন অনুসারীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও এ মামলায় আরো অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে নিহতের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে সিংড়া আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
বাদী মামলায় বলেন, ২০১০ সালের ৫ মে সকালে রাজশাহীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় যাওয়ার জন্য বগুড়া জেলার নেতাকর্মীরা প্রায় দেড় হাজার ছোট বড় গাড়ির বহর নিয়ে রওনা করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাড়ি বহরটি নাটোরের সিংড়া বাস টার্মিনালের নিকট পৌঁছলে মামলার এক নম্বর অভিযুক্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে তার ঘনিষ্ট সহচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেল, ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ, সাজ্জাদ হোসেন, তৎকালীন যুবলীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ভোলা, পলকের ব্যক্তিগত সহকারী রুহুল আমিন হুজুর, ডালিম আহমেদ ডনসহ অভিযুক্তরা পিস্তল, রাইফেল, রিভলবারসহ আগ্নোয়াস্ত্র ছাড়াও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে হামলা করে।
আরো পড়ুন : নতুন মামলায় গ্রেপ্তার আমু-ইনু-জিয়াউলসহ ৫ জন
হামলায় বাদীর স্বামী বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাদরাসা শিক্ষক জাকির হোসেনসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুরুতরভাবে আহত করে। জাকির হোসেনকে প্রথমে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
বাদী রাজিয়া সুলতানা বলেন, ঘটনার পর এ বিষয়ে সিংড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে আসামিদের চাপে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। এখন আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি।
নাটোরের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিংড়া আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন আলী মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন।
