গোয়াইনঘাটে ভোগ্যপণ্যের উর্ধ্বমুখী দামে বিপাকে ক্রেতা
নজরুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট সিলেট থেকে
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
সিলেটের গোয়াইনঘাটে পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষজন। বাজারে গেলেই বাড়তি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন বাজারের ক্রেতাদের মুখে মুখে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অস্বাভাবিক মূল্য। রমজানের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দাম সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
কৃত্রিম সংকট তৈরি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খুচরা বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় অনেকাংশে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।রমজানে এলেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানোর হিড়িক পড়ে যায়।এটা যেন বছর বছর নিয়মে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজানে বেশি ব্যবহৃত পণ্য যেমন চাল, ডাল, তেল, চিনি, খেজুর, ছোলা, পেঁয়াজ, আলু কলা ও বিভিন্ন সবজির দাম আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।একজন কলেজ প্রভাষক আক্ষেপ করে বলেন,স্বাগতম মাহে রমজান,৮০ টাকার লেবু ১৬০ টাকায় কিনলাম।
এদিকে সবজির বাজারেও নেই স্বস্তি। পেঁয়াজের কেজি ৫৫-৮০ টাকা, আলু ২০ টাকা,শশা ৯০ টাকা, কলা কুড়ি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে এবং ৮০ টাকার লেবুর হালি ১৪০ টাকা। এসব দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই।
মধ্য প্রাচ্ছে থাকা প্রবাসী এক ক্রেতা জানান, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে দেন। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় তারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার না হলে রমজানে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারেই পণ্যের দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। পরিবহন খরচ ও সরবরাহ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তারা।
সচেতন মহল মনে করছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে বাজারে নিয়মিত অভিযান, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং কঠোর মনিটরিং জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন,রমজান মাস আসলে কেন যে মানুষ এরকম হয়ে যায়,প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান
