বয়স জালিয়াতি করে ৩৭ বছর চাকরি
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ০১:৩৪ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
বয়স চলে চুয়াত্তর সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী অবসরে যাওয়ার সময় এসেছে তার। কিন্তু সনদে বয়স জালিয়াতি করে প্রায় ৩৭ বছর ধরে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘ভি এস ম্যাশন’ পদে চাকরি করছেন মীর আব্দুল গনি।
মীর আব্দুল গনি তালা সদরের মৃত মীর বদর উদ্দীনের ছেলে । দীর্ঘদিন প্রশাসনের নাকের ডগায় তিনি বয়স জালিয়াতি করে চাকুরি করে আসলেও নজরে আসেনি কারোর।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মীর আব্দুল গনির বিরুদ্ধে জমি দখল, প্রতারণা, চুরি, নারী কেলেংকারীসহ নানা অভিযোগ । সরকারি চাকুরি করার পরও তার স্ত্রী ছামেনা খাতুনের নামে ৫০ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়ে সেটা বহাল তবিয়তে ভোগ দখল করে আসছেন তিনি। জন্মতারিখ অনুযায়ী মীর আব্দুল গনির বয়স এখন ৫৮ বছর। বর্তমান তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৫ জুন ১৯৬৬। এদিকে তার ছোট ভাই মীর রফিকুল ইসলামের জন্ম ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৫১। ছোট ভাইয়ের চেয়ে মীর আব্দুল গনির বয়স প্রায় ১৫ বছর বেশি হলে গনির এত কম হয় কিভাবে? এনিয়ে রয়েছে কৌতূহল জনমনে ।
আরো পড়ুন: তালায় জামগাছ থেকে পড়ে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
স্থানীয়রা জানান, ৩৭ বছর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘ভি এস ম্যাশন’ পদে চাকরি করে চলেছেন মীর আব্দুল গনি। টানা ২৭ বছর তিনি নিজ উপজেলাতে চাকুরি করেন। কর্মস্থলের পাশে বাড়ি হওয়ায় সুবাদে অধিকাংশ সময় অফিসে দেখা যায় না তাকে । অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ ২৭/২৮ ধরে একই এলাকায় কর্মরত থাকার সুবাদে মীর আব্দুল গনি অফিস ফাঁকিসহ চরমপন্থি নেতা কফিল উদ্দীন খাঁর সঙ্গে মিলে জমি প্রতারণা,দখল, সুদের ব্যবসা, জাল দলিল তৈরিসহ নানান অপকর্মে জড়িয়ে রয়েছেন তিনি ।
তারা আরো জানান, মীর আব্দুল গনির প্রকৃত জন্ম তারিখ ১৯৫০ সালের দিকে। তারচেয়ে বয়সে ছোট অনেকেই চাকুরি থেকে গেছেন অবসরে। এদিকে মীর আব্দুল গনির নিজের ছোট ভাইয়ের বয়স বর্তমানে প্রায় ৭২ বছর। অন্যান্য ছোটভাইদের বয়সও জন্মসনদ অনুযায়ী তারচেয়ে বয়স বেশি থাকলেও জালিয়াতি করে কমিয়ে বহাল তবিয়তে চাকুরি করে যাচ্ছেন তিনি। এ ঘটনায় তার সংক্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মীর আব্দুল গনি জানান,, আমার বয়স ৭৪ বছর চলে মেনে নিলাম আপনারা প্রমাণ করেন। আমার ক্ষমতা আছে আমি চাকরি করি আপনারা যা করার করেন।
তালা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কৌশিক রায় জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে ।
