‘যারা মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তারাই সিনেমা বন্ধ করেছে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, যারা মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তারাই সিনেমা বন্ধ করেছে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। অথচ ২০২১ সালে সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সঙ্গীতাঙ্গন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো সিনেমা হল নেই, কোন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না এই কালো নকশা কারা করছে। মূলত যারা বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়ে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে চায় তারাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোন বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর নয় বরং জনতার যুদ্ধ ছিলো তেমনি, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানেও দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। তাই কেউ যদি দেশের গণআন্দোলনকে কুক্ষিগত করতে চায় তার পরিণতি অতীতে যেমন ভাল হয়নি, ভবিষ্যতেও তার পরিণতি ভাল হবে না।
তিনি আরও বলেন, বনলতা এক্সপ্রেস একটি পারিবারিক ও সামাজিক ছবি হওয়া সত্বেও তা কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো। যে রাষ্ট্রে ধর্ষণ, হত্যা, দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে না; সে রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধে মদদ দেয়।
তিনি বলেন, গত দুই বছরে মাজার ভাঙা হয়েছে কবর থেকে তুলে নিয়ে মরদেহ পোড়ানো হয়েছে, ডানপন্থী উগ্রবাদের উত্থান দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশের মাটি এমন ছিলো না। এই দেশে যেমন সুমধুর আজানের ধ্বনি শুনেছি, তেমনি বাউল গানও হয়েছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন জাগে কারা বাংলাদেশকে এখন মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়। আমরা এমন রাষ্ট্র আমরা আশা করি না. যে রাষ্ট্র মানুষকে পেছনে নিয়ে যাবে। এ সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বিঘ্নভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পালনে সার্বিক ব্যবস্থা করার জন্য দাবি জানান।
এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, রিফতি আল জাবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন সোনালী সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসির প্রমুখ। বক্তারা, সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। মানববন্ধন শেষে মহাসড়কে প্রতিবাদ মিছিল করেন।
প্রসঙ্গত, গেল ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ‘কওমী ছাত্র-জনতার’ বিরোধের মুখে প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে সাংস্কৃতিক মহলে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
