ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা তেহরানের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিল তেহরান। সব ধরনের যোগাযোগ ও নথিপত্র আদান-প্রদান স্থগিতের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় চলা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি আপাতত পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান।
সোমবার (১ জুন) ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযান এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। বিশেষ করে লেবানন যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত হওয়া সত্ত্বেও তা অমান্য করায়, ইরানের আলোচনাকারী দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সমস্ত সংলাপ এবং নথিপত্র বিনিময় স্থগিত করেছে।
পরোক্ষ এই আলোচনা আবার শুরু করার জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, আলোচনার টেবিলে ফিরতে হলে গাজা এবং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ‘অবিলম্বে বন্ধ’ করতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দখল করা এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
২০০০ সালে লেবানন থেকে দীর্ঘ দখলদারত্ব অবসানের পর এবারই প্রথম ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের দক্ষিণে এত গভীরে প্রবেশ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির বাসিন্দাদের বিমান হামলার আগেই এলাকা খালি করার নির্দেশ বা সতর্কতা জারি করেছে।
এদিকে, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরান এবং তার মিত্ররা হরমুজ প্রণালি ফের সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ অন্যান্য ফ্রন্টগুলোকে সক্রিয় করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথগুলো অবরুদ্ধ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
