স্ত্রী-সন্তান নিহতের ঘটনায় মামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মচারী তারিন আক্তার (৩৪) ও তার দুই বছর বয়সী মেয়ে আল ইয়াশার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
অজ্ঞাতনামা গাড়ির অজ্ঞাতপরিচয় চালককে আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন নিহত তারিনের স্বামী মীর জাকারিয়া হোসেন নয়ন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তারিন আক্তার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৫ মে তিনি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এলাকায় ঘুরতে যান। সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে তারা স্কুটারে রওনা হন।
এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী বিএম ২ নম্বর গেট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৌঁছালে চট্টগ্রামমুখী লেনে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি স্কুটারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তারিন আক্তার ও তার শিশু কন্যা আল ইয়াশা গুরুতর আহত হন এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা চিৎকার শুনে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারিন আক্তার ও দুই বছর বয়সী কন্যা আল ইয়াশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গাড়ি ও চালকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে এটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মীর জাকারিয়া নয়ন। তিনি বলেন, “আমার চোখের সামনে স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়েছি। এর কী কোনো বিচার পাবো না? সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ওই বেপরোয়া গাড়ি চালককে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হোক।”
বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হক এক সপ্তাহ আগে জানিয়েছিলেন, ভাটিয়ারী বিএমএ গেট এলাকায় মা ও শিশুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে তারা মারা যান। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক নাসির বলেন, “গতকাল মামলা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনার ও ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
