বালু উত্তোলন ঠেকাতে গিয়ে হামলার শিকার, ইউএনও-ওসিসহ আহত ১৫
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালুমহালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় হামলা ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বলিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম, রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব, আনসার সদস্য নুর মোহাম্মদ, মো. সালাউদ্দিন, খোরশেদ আলম ও নুর আহাম্মদ, ইউএনওর গাড়িচালক কামাল হোসেন, অফিস সহকারী জয়নাল আবেদীন, পিয়ন মো. হারুন, পৌরকর্মী শিহাব এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজাদ হোসেন, সুমন ত্রিপুরা, নূর হোসেন ও আবুল হাসান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বলিপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কৃষিজমি খনন করে ১০টি স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় বালু উত্তোলনকারীদের সহযোগিতায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি আরও জানান, হামলার সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা শর্টগান থেকে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন।
অন্যদিকে আহত নূর হোসেন, সুমন ত্রিপুরা ও আজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় কৃষি সেচের তিনটি স্যালো মেশিন ভাঙচুর করা হয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে গুলি ছোড়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রামবাসী ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
তবে ইউএনও কাজী শামীম স্যালো মেশিন ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
