×

চট্টগ্রাম

পাথর খেকোদের থাবায় হুমকির মুখে থানচি পর্যটন স্পট

Icon

মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম,থানচি (বান্দরবান) থেকে

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

পাথর খেকোদের থাবায় হুমকির মুখে থানচি পর্যটন স্পট

ছবি: কাগজ প্রতিবেদক

বান্দরবানের থানচি উপজেলার অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ তিন্দু বাজারের নিচে পাথর খেকোদের থাবা পরিবেশের অস্তিত্ব সংকট ও হুমকি তৈরি হচ্ছে এবং প্রকৃতি সুন্দর্য্য হাড়াচ্ছে। শংঙ্খ নদী ধারে বিশালাকার বোল্ডার পাথরের উপরে বসে পর্যটকদের ছবি তোলা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জনপ্রিয় স্থান থেকে একটি চক্র পাথর অপসারণ করায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গেলে , গেল ডিসেম্বর ২০২৫ মাস থেকে তিন্দু বাজার মূখে বিজিবি চেক পোস্ট ও তার আশেপাশে শংঙ্খ নদী ধারে বিশালাকার বোল্ডার পাথরের একটি দর্শনীয় স্পট থেকে পাথর উত্তোলন করে সরকারি অবকাঠামোগত ভবন নির্মাণকাজে ব্যবহার করার হচ্ছে। বিশালাকার বোল্ডার পাথরগুলি রাতে আঁধারে বারুদের  বিস্ফোরন ঘটিয়ে এবং  জও ক্রাশার, কোণ ক্রাশার, ইমপ্যাক্ট ক্রাশার, স্টোন ব্রেকার মেশিন মাধ্যমে  কংক্রিট করে তিনটি সরকারি অবকাঠামো ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিন্দু মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মান,তিন্দু বৌদ্ধ বিহারে ভবন নির্মান,তিন্দু বাজারে বাজার সেট নির্মান কাজের এ পাথর গুলি ব্যবহার করছে ঠিকাদার সংস্থা সাথে জড়িত সংশ্রিষ্ঠরা।

খোজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২- ২৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নের ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের তিন্দু গ্রোপিং পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমি ভবন তৃতীয় তলা ফাউন্ডেশন প্রথম তলা বাস্তবায়ন কাজের  রেমাক্রী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি মালিকানা আগমা এ্যান্টারপ্রাইজ ঠিকাদার সংস্থাকে কার্যাদেশ দেন। কাজ না করে  ৫ বছর ফেলে রেখে ২০২৬ সালে  জানুয়ারী মাসের কাজ শুরু করেন। একই অবস্থা বৌদ্ধ বিহারের এক তলার ভবন নির্মান,বাজার সেট নির্মান কাজ শুরু করেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

পাথর ও বালির উক্তোলন ও ভাঙ্গার সাথে জড়িত সরবরাহকারী  স্থানীয় যুব লীগের নেতা শৈবাসিং মারমা বলেন,আগমা এ্যান্টারপ্রাইজ ঠিকাদার সংস্থা মালিক মুইশৈথুই মারমা রনি টাকা ও কথায় আমি শংঙ্খ নদী থেকে পাথর বালির উক্তোলন ও পাথর ভাঙ্গাসহ সরবরাহ করছি। আমার  সাথে রেমাক্রী বাজারে ছাত্র লীগের কর্মী হ্লাচিংমং মারমা ও সেয়ার রয়েছে।

তিন্দু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়ান বলেন, ভবন না থাকায় ক্লাস করতে পারছিলাম না, ঠিকাদার ৫ বছর কাজ না করে ফেলে রেখেছেন। ঠিকাদার, সাইট তদারকি ইঞ্জিনিয়ার, আমি সমন্বয়ের কথা বলে স্থানীয় পাথর ও বালির ব্যবহারের নিশ্চিৎ করার পর কাজটি শুরু করে দিয়েছে তারা।লেয়রে ইটের কংক্রীট ও পাথরের কংক্রীট মিস করে ইতিমধ্যে  ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেছে।

ওয়ার্ড মেম্বার ক্রানিঅং মারমা বলেন, বছরের বিভিন্ন সময়ে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা থানচির পাহাড়-নদীঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসেন। বিশেষ করে নদীর পাড় ও পাথরময় প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সেখান থেকে পাথর উত্তোলনের ফলে দৃশ্যপটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫–এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রম পরিচালনার আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক।

যোগাযোগ করা হলে আগমা এ্যান্টারপ্রাইজ মালিক মুইশৈথুই মারমা মুঠোফোন বন্দ থাকায় বক্তব্য নেয়ার সম্ভব হয় নি।

জেলা পরিষদের সদস্য ও বিএনপি সাবেক সভাপতি খামলাই ম্রো  বলেন,অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন চলতে থাকলে ভূমিক্ষয়, নদীভাঙন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নৌযান চালক ও গাইডদের জীবিকায় প্রভাব পড়বে।

তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা বরেন,, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ইয়াছির আরফাত বলেন, বর্তমানে তিন্দু পর্যন্ত সড়ক হয়েছে ইটের কংক্রিট ও ভালো মানের বালির ব্যবহার যোগ্য স্থানীয় পাথর বালির ব্যবহারে কোন সুযোগ নেই।যদি কোনো অনিয়ম বা পরিবেশগত ক্ষতির বিষয় প্রমাণিত হয়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।

যোগাযোগ করা হলে বান্দরবান জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে উপ- পরিচালক  মো: রেজাউল করিম বলেন, পাথর বালির উক্তোলন হচ্ছে সেটা খনিজ্য সম্পদ আমাদের অধিদপ্তর পরিবেশ নিয়ে কাজ করি। তাছাড়া ঠিকাদার মুইশৈথুই মারমা রনি ভালো মানুষ আমার সাথে যোগাযোগ রযেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে পরিকল্পিত উপায়ে বিকল্প উৎস থেকে নির্মাণ সামগ্রী সংগ্রহ করা এবং পর্যটন স্পট সংরক্ষণে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। অন্যথায়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত থানচির পর্যটন খাত দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। পাথর ও বালির উক্তোরন বন্ধ করার এবং স্বহঅবস্থানের ফের রেখে দেযার বান্দরবানের  সংসদ সদস্য রাজ পুত্র সাচিংপ্রু জেরী এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিন্দুবাসী।


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক আকাশযান ভূপাতিত করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক আকাশযান ভূপাতিত করল ইরান

ঈদের দিন ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা

ঈদের দিন ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা

হাম ও উপসর্গে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু

হাম ও উপসর্গে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু

মেসির চোটের সবশেষ অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল

মেসির চোটের সবশেষ অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App