জবি থেকে বিচক্ষণ-সাহসী যোগ্য ভিসি চান শিক্ষকরা
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৪ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার যোগ্যতাসম্পন্ন, বিচক্ষণ ও সাহসী উপাচার্য চান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষকরা। এছাড়া উপাচার্যকে অবশ্যই জবি থেকেই হতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে শিক্ষকদের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারা। জবি থেকে ভিসি নিয়োগের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময়কালে শিক্ষকরা বলেন, অতীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা উপাচার্য হয়ে এসেছেন, রুটিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তখনো নিজের বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে কাজ করেননি। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ শেষ হতে ৬-৭ বছরের বেশি লাগার কথা নয়। কিন্তু কাজ কেউ আন্তরিকতার সঙ্গে করেননি।
তারা আরো বলেন, এখন দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। আমরা কথা বলতে পারছি। এখনই দাবি জানানোর উপযুক্ত সময়। আমাদের ক্যাম্পাসের সমস্যা আমাদের শিক্ষকগণই ভালো বুঝতে পারবেন। তবে অবশ্যই উপাচার্যকে বর্তমান দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার যোগ্যতাসম্পন্ন, বিচক্ষণ ও সাহসী হতে হবে।
আরো পড়ুন: ঢাবির উপ-উপাচার্য হলেন ড. সায়েমা হক বিদিশা
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. মো. বিলাল হোসাইন বলেন, আমরা ১৯ বছর ধরে জবি থেকে ভিসি পাইনি। ফলে আশানুরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোতে উন্নয়ন হয়নি। আমরা পিছিয়ে আছি।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের থেকেই ভিসি চাই। তাকে অবশ্যই সৎ মানুষ হতে হবে। পাশাপাশি বিচক্ষণতা ও সাহস থাকতে হবে। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়কে সুষ্ঠুরূপে পরিচালনা করতে পারেন।
কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. লায়েক বলেন, আমার প্রধান পয়েন্ট হচ্ছে, এখনই উপযুক্ত সময় আমাদের দাবি তুলে ধরার। সেটা হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য দিতে হবে। তাকে যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। কোনোভাবেই যেন ব্যর্থ না হোন, সেদিকে নজর রাখতে হবে। ব্যর্থ হলে আমাদের দাবি নিয়ে আবার সমালোচনা তৈরি হবে।
আরো পড়ুন: মুন্সিগঞ্জে বিতর্কিত শিক্ষক মনোরঞ্জন ধরকে অপসারণের দাবি
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ কাদের চৌধুরী বলেন, ভিসি নিয়োগের দাবি জানানোর সঙ্গে আমাদেরও (শিক্ষক) সমালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা দেখেছি, অতীতে ভিসির কার্যালয়ে গিয়ে বিনা কাজে বসে থাকতো শিক্ষকরা। এতে শিক্ষকদের সম্মান থাকে না। আমরা যেন উপাচার্যের মাই ম্যান হয়ে দাঁড়িয়ে না যাই। এই পরিবর্তনের সময়ে আমাদের এই আচরণও পরিবর্তন করতে হবে।
এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূরে আলম আব্দুল্লাহ, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আকরাম উজ্জামান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ড. মোহাম্মদ রেজাউল হোসাইন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাক আহমেদ ও ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
