প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন দলটির সংসদ সদস্যরা। এরপর সংসদে সরকারি দলের জন্য নির্ধারিত সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিজয়ী দল হিসেবে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।
তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে বিএনপির নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ শেষে সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় তাকে সর্বসম্মতভাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথবাক্য পাঠ করেন। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
শপথ গ্রহণ উপলক্ষে সংসদ ভবন এলাকায় সকাল থেকেই ভিড় দেখা যায়। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান দেখা গেছে।
আরো পড়ুন : সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত তারেক রহমান
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, সকাল ১০টায় শুরুতে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। এরপর বিএনপি জোটের নির্বাচিত তিনজনকে শপথ পাঠ করানোর পর দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা রয়েছে। পরে জামায়াতের জোটের শরিক দলগুলোর সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে।
শপথ শেষে সংসদ ভবনের তৃতীয় তলায় রাখা শপথ বইয়ে সই করবেন সংসদ সদস্যরা। এরপর পরিচয়পত্রের জন্য ছবি, আঙুলের ছাপ ও ডিজিটাল স্বাক্ষর দেবেন তাঁরা। এ জন্য ১০টি বুথ রাখা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য সংসদ ভবনের নিচতলার শপথকক্ষ এবং নয়তলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সভাকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শপথের কার্যক্রম শেষে বিএনপির সংসদীয় দল সকাল সাড়ে ১১টায় বৈঠক করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপ নির্বাচন করা হতে পারে। একই সভায় আগামী জাতীয় সংসদের স্পিকার বাছাইয়ের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে, যা সংসদের প্রথম অধিবেশনে কণ্ঠভোটে পাস হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হবে। এর ভিত্তিতে বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা প্রস্তুত করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে থাকবে আমন্ত্রিত অতিথিদের বসার ব্যবস্থা। সংসদ ভবন এলাকায় সাজসজ্জাও করা হয়েছে। রীতি অনুযায়ী শপথ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারলেও এবার নিরাপত্তার কারণে শুধু নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে দু-একটি ব্যতিক্রম বিবেচনা করা হতে পারে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১৬৫ জন ছাড়া বাকিদের সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে কয়েকজন বাদ পড়তে পারেন।
এবার শপথ অনুষ্ঠান কভারেজের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে এবং সাংবাদিকেরা সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ও নির্ধারিত সাংবাদিকেরা প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেওয়ার কথাও রয়েছে। এ শপথের প্রস্তুতিও সংসদ সচিবালয় সম্পন্ন করেছে।
