নির্বাচনী জনসভা শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণার শেষ দিনে মা ও বাবার কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দিনভর ৮টি জনসভা শেষে রাত ১১টার দিকে তিনি শেরেবাংলা নগরে যান। সেখানে তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।
গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান। প্রায় ২০ দিনের এই প্রচারাভিযানের শেষ দিন সোমবার তিনি রাজধানীর বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় জনসভায় অংশ নেন।
এ সময় তারেক রহমান শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি দীর্ঘক্ষণ মোনাজাত করেন। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সোমবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারেক রহমান ঢাকা মহানগরীর আটটি জনসভায় বক্তব্য দেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ (বনানী) ছাড়াও ঢাকা-১০ (কলাবাগান), ঢাকা-৮ (পীরজঙ্গী মাজার), ঢাকা-৯ (মান্ডা), ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী), ঢাকা-৪ (জুরাইন), ঢাকা-৬ (ধূপখোলা) এবং ঢাকা-৭ (লালবাগ) আসনের জনসভাগুলোতে অংশ নেন। এসব জনসভায় তিনি দলের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের সমর্থন কামনা করেন।
এদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে বিশেষ নির্বাচনী ভাষণ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সম্প্রচারিত ওই ভাষণে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে জনগণের মালিকানা ফিরে পাওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সবাইকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ভাষণে তিনি ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকার গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদান এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন।
এছাড়া সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করেন তিনি। দল-মত নির্বিশেষে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি অতীতে দলের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তা সংশোধন করে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
