প্রেমের টানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান তরুণী, গাইতে পারেন জাতীয় সঙ্গীত
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া প্রবাসী ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নাঠৈ গ্রামের বাসিন্দা সোহেল খলিফা বিয়ের প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো তার মালয়েশিয়ান স্ত্রী নুর হিদায়া নুর হিশামকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশে এসেছেন। বিদেশি পুত্রবধূর আগমনে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও উৎসুক গ্রামবাসী।
সোমবার রাতে নবদম্পতিকে ঘিরে গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে সোহেলের গ্রামের বাড়িতে বৌ-ভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় যান সোহেল খলিফা। পরে সেখানে ব্যবসা শুরু করেন। ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার ভানতিং এলাকার বাসিন্দা নুর হিদায়া নুর হিশামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে দুই পরিবারের সম্মতিতে মালয়েশিয়াতেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর এই প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন সোহেল। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তারা বাংলাদেশে আসেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন।
সোহেল খলিফা জানান, বিয়ের পর থেকেই তার স্ত্রীর ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশে এসে শ্বশুরবাড়ি দেখা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিশে বাংলাদেশের সংস্কৃতি কাছ থেকে অনুভব করা। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই দুই সপ্তাহের জন্য তারা দেশে এসেছেন।
তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী বাংলাদেশে এসে খুব আনন্দিত। সে আমার মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। অল্প বাংলা বলতে পারে, এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতও গাইতে পারে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে বাংলায় কথা বলারও চেষ্টা করছে।”
সোহেল আরো জানান, দেশে অবস্থানকালে তারা কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন। এরপর আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যাবেন।
এদিকে বিদেশি তরুণীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। তাকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নাঠৈ গ্রামে ছুটে আসছেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, বিদেশি নাগরিকের আগমনের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
