জামিনের পর জেলগেটে কান্নার রোল, ফের আটক আ.লীগ নেতা
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আদালত থেকে দ্বিতীয়বারের মতো জামিন পাওয়ার পরও মুক্তির আনন্দ স্থায়ী হলো না লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল হক খন্দকারের কপালে।
বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই জেলগেট থেকেই তাকে পুনরায় আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ নিয়ে পরপর দুইবার জামিন পেয়েও কারামুক্ত হতে পারলেন না এই আওয়ামী লীগ নেতা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় সিরাজুল হক খন্দকার জামিনে কারামুক্ত হয়ে লালমনিরহাট জেলা কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বের হন। এ সময় আগে থেকেই সেখানে ওত পেতে থাকা ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে এবং একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
এই আকস্মিক আটকের ঘটনায় জেলগেটে উপস্থিত সিরাজুল হকের স্ত্রী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও কান্নার রোল পড়ে যায়। সিরাজুল হকের স্ত্রী ডিবির গাড়ি আগলে ধরে চিৎকার করে বলতে থাকেন, "আমার স্বামীকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। সবকিছুর একটা সীমা থাকা দরকার। ওনার অপরাধটা কী? উনি তো কোনো অন্যায় করেননি।"
কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, আল্লাহ পাক এর বিচার করবেন। এটা কেমন রাজনীতি ?? এর আগে জামিনে মুক্তি পেলেও তাকে জেলগেট থেকে ডিবি পুলিশ নিয়ে যায়। আজ আদালত আমার স্বামীকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে কিন্তু আজকেও জেলগেটে ডিবি পুলিশ জেলগেটে আগেথেকে হাজির তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আল্লাহ পাক এই অত্যাচার সইবেনা। আমার স্বামীতো কোনো অপরাধ করেনি তাহলে কেনো এভাবে বারবার তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই প্রশ্ন লালমনিরহাট জেলাবাসির কাছে রইলো
আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান এই নেতা আটকে আগে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "গত ২৪ তারিখেও আমি আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেয়েছিলাম। কিন্তু জেলগেট থেকে ‘ফ্যাসিস্ট কায়দায়’ জুলুম-নির্যাতন করে আমাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে শ্রমিক দলের অফিস ভাঙচুরের একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আমাকে জেলে পাঠানো হয়।
আজকে আবারও আদালত আমাদের আইনজীবীদের যুক্তি তর্কশুনে আমাকে জামিন দিয়েছেন, কিন্তু বের হতেই ডিবি আবার আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমি স্বেচ্ছায় যাচ্ছি, তবে লালমনিরহাটবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন রইল— আসলে ফ্যাসিস্ট কারা, তা আপনারা বিবেচনা করে দেখবেন।"
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর সিরাজুল হক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন। বিভিন্ন মামলায় আইনি লড়াই শেষে গত ২৫ মে তিনি প্রথমবার জামিন পান। কিন্তু জেলগেট থেকেই ডিবি পুলিশ তাকে ২০২৩ সালের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুনরায় হাজতে পাঠায়।
বুধবার সেই মামলাতেও আদালত থেকে জামিন লাভের পর আবারও তাকে আটক করা হলো। তবে এবার কোন মামলায় তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি হননি।
এব্যপারে লালমনিরহাট ডিবি ওসি রওশন কবিরের সঙ্গে মুঠোফোন আলোচনা হলে তিনি বলেন, তাকে গণেফতার করে লালমনিরহাটে সদর থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।
লারমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সাদ আহমেদ ভোরের কাগজ কে বলেন কোন মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হবে তা আজকে বলা যাচ্ছে না আগামী কাল এ বিষয়ে বলাযাবে।
পরপর দুইবার আইনিভাবে জামিন পাওয়ার পরও জেলগেট থেকে এভাবে পুনরায় আটকের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সিরাজুল হকের পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।
