খিচুড়ি কিনতে গিয়ে উধাও শিক্ষার্থী, কক্সবাজারে উদ্ধার
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের ভাটিখানা থেকে নিখোঁজ বরিশাল কালেক্টরেট স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌরভ দাশ শানকে চার দিন পর কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৬ মে) ভোররাতে অচেতন অবস্থায় ঈদগাঁও ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে ঈদগাঁও থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে রহস্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে।
নিখোঁজ শানের মা মিতু রানী জানান, গত শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় খিচুড়ি কেনার উদ্দেশ্যে বিকাশ থেকে টাকা তুলতে বাসা থেকে বের হয় সে। পরিবার থেকে তাকে মাত্র ৫০০ টাকা উত্তোলনের কথা বলা হলেও, সে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করে উধাও হয়ে যায়।
শান জানায়, টাকা তুলে একটি দোকানে খাবারের অর্ডার দিয়ে রাস্তায় হাঁটার সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে একটি সাদা কাগজে লেখা ঠিকানা পড়তে বলেন। ঠিকানাটি পড়ার পরপরই তার চোখে অন্ধকার নেমে আসে এবং সে জ্ঞান হারায়। এরপর টানা চারদিন তার কোনো স্মৃতি নেই।
পরিবার ও পুলিশের ধারণা, তাকে অজ্ঞান করতে স্কোপোলামিন বা ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে। অচেতন অবস্থায় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন এবং উত্তোলিত টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও ব্রিজ এলাকায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক নারী ও পুরুষ তাকে উদ্ধার করে ঈদগাঁও থানায় নিয়ে যান। পুলিশ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করলে ধীরে ধীরে সে সুস্থ হয়ে ওঠে।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, ছেলেটি নিজের ঠিকানা স্পষ্টভাবে বলতে না পারায় গুগলের মাধ্যমে সম্ভাব্য এলাকা যাচাই করা হয়। পরে বরিশালের কাউনিয়া থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
ওসি আরও জানান, শানের পকেট থেকে ‘ব্লুবার্ড ট্রাভেলস’-এর দুটি বাস টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে। একটি টিকিটে ৩ মে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে বিরামপুরগামী যাত্রার উল্লেখ রয়েছে এবং সেখানে শানের নাম ও অসম্পূর্ণ একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। অন্য টিকিটে গন্তব্য দিনাজপুর লেখা থাকলেও কোনো নাম বা নম্বর ছিল না। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে দিনাজপুর ও বিরামপুর এলাকায় নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে নিখোঁজ হওয়ার দিন স্থানীয় দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে শানকে একাই রিকশায় করে অন্যত্র যেতে দেখা যায়। কাউনিয়া থানা পুলিশ ওই রিকশাচালককে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। এদিকে, ভাটিখানা প্রাইমারি স্কুল মাঠ থেকে তার বাটন ফোন উদ্ধার করা হয় এবং কিছু সময় পর একই স্থান থেকে তার মায়ের স্মার্টফোনও উদ্ধার করে পুলিশ।
শানের মা মিতু রানী অভিযোগ করেন, টাকা উত্তোলনের ঘটনা এবং তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তিনি মনে করছেন এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিকাশ দোকানদারও ধারণা দিয়েছেন, শানের সঙ্গে অন্য কেউ ছিল এবং টাকা নেওয়ার পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করা হয়।
এর আগে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ শিশু শানকে উদ্ধারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফটোকার্ড প্রকাশ করে এবং একাধিক টিম মাঠে কাজ শুরু করে।
ঈদগাঁও থানার ওসি জানান, শানের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুরো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কক্সবাজার ও বরিশাল পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরজিৎ কুমার দত্ত জানান, সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী শান নথুল্লাবাদ এলাকায় নেমে অন্যত্র গেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। খোঁজ পাওয়ার পর শানকে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও পরিবারের লোকজন কক্সবাজার রওয়ানা হয়ে গেছে।
