দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের মধ্যে রোগের প্রাদুর্ভাব

আগের সংবাদ

সাহেদরা...

পরের সংবাদ

‘সম্পর্কে নতুন মোড়’

শ্যামল দত্তের লেখা নিয়ে ভারতে মিডিয়ায় আলোচনা

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২০ , ৭:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২০ , ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশে চলমান ভারতীয় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে গতি হ্রাস পেয়েছে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বরাবরের মতোই সমর্থন দিয়েছে ঢাকা। এমনকি সর্বশেষ গেল চার মাসে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগ পাননি ভারতের হাই কমিশনার।

গত ২৪ জুলাই ভোরের কাগজে প্রকাশিত সম্পাদক শ্যামল দত্তের ‘শেখ হাসিনাকে ইমরান খানের ফোন; সম্পর্কে নতুন মোড়’ শিরোনামে লেখা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’। কল্লোল ভট্টাচার্যের লেখা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে তার সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ১৫ মিনিটের আলাপচারিতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের লজ্জাজনক ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে নতুন করে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন তারা।

ভোরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন

ভোরের কাগজ সম্পাদকের ‘সম্পর্কে নতুন মোড়’ শিরোনামের লেখার সূত্র ধরে কল্লোল ভট্টাচার্য তার প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েও পাননি। যদিও ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ‘দ্য হিন্দু’র প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়া হয়নি। তবে ভারতীয় মিশনের একজন কূটনীতিক জানিয়েছিলেন, রিভা গাঙ্গুলি দাস সফরে চলে গেছেন।

প্রতিবেদনে সিলেটে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়, বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (বিইউসিজি) সিলেটের এমএজি ওসমানিয়া বিমানবন্দরে একটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি পেয়েছে। যে স্থানটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমানা এবং নয়াদিল্লির জন্য সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। ভোরের কাগজের লেখার উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ ইস্যুতে ভারতের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে চিঠিও পাঠায়নি বাংলাদেশ।

‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে ইমরান খানের ফোনকলের বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের করা ফোনকলের ব্যাপারটা ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইমরান খানের কথোপকথনের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ঢাকা। পাকিস্তানের সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইমরান খান শেখ হাসিনাকে কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন এবং এই বিরোধের ‘সমাধান’ চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, পরদিন বৃহস্পতিবার ভারত এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেছে, ঢাকা মনে করে কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত প্রতিবেদন

‘দ্য হিন্দু’তে ভোরের কাগজের প্রতিবেদনের বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার কার্যালয়ে একটি অংশ সক্রিয়ভাবে চীনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ককে সমর্থন করছে। গত ১০ মাসে পাকিস্তানের মিত্র চীনের সঙ্গে সম্পর্কের দ্রুত উন্নতিতে বিষয়টি দৃশ্যমান হয়। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর পাকিস্তানের কাছ থেকে পেঁয়াজ নিয়েছিল বাংলাদেশ।

কল্লোল ভট্টাচার্য তার প্রতিবেদেনে আরো তুলে ধরেন, গত ১৫ বছরে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে কৃষিজাত পণ্য আমদানি করলো। শেখ হাসিনার সরকার ১৯৭১ সালে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসি দেয়ার পরে ঢাকার সঙ্গে-ইসলামাবাদের সম্পর্কে ভাটা পড়ে। পাকিস্তান এই ফাঁসির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধভাবে প্রতিবাদ করেছিল এবং দুই বছর পর্যন্ত (২০১৮-১৯) পাকিস্তানি হাইকমিশনাকে আমন্ত্রণও জানায়নি ঢাকা।

এমআই/এমএন

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়