ইরাকি তেল রপ্তানি করতে প্রস্তুত কুর্দিস্তান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:১৭ এএম
৩ লাখ ব্যারেল তেল তুরস্কে রপ্তানি করতে প্রস্তুত ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়। ছবি : সংগৃহীত
এরবিল সরকার পথ ব্যবহার করার অনুমতি দিলে কুর্দিস্তান অঞ্চলের পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনে সর্বাধিক ৩ লাখ ব্যারেল তেল তুরস্কে রপ্তানি করতে প্রস্তুত ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়। রোববার (১৫ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে এক কুর্দ সরকারি কর্মকর্তা। তিনি জানান, যদি বাগদাদ কুর্দিস্তান অঞ্চলের ওপর আরোপিত ডলার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবেই তারা রপ্তানি শুরু করবে। খবর রুদাওয়ের।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুর্দিস্তান কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যাতে এক্সপোর্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনে ৩ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা যায়। এর পাশাপাশি কুর্দিস্তান অঞ্চলে উৎপাদিত প্রায় ২ লাখ ব্যারেল তেলও রপ্তানি করা হবে, যা ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
ফেডারেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বর্তমানে রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে অস্বীকার করেছে। একইসঙ্গে কয়েকটি শর্ত জারি করেছে যা কাঁচা তেলের রপ্তানির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তবে তারা কুর্দিস্তান কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, এই শর্তগুলো রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ার পর আলোচনা করা যাবে।
আরো পড়ুন : ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেল কোম্পানির শেয়ারে রেকর্ড
ইরাকের তেলমন্ত্রী হায়ান আব্দুল-গানি বলেন, এই অনুরোধের লক্ষ্য দক্ষিণ বন্দর থেকে রপ্তানি বন্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আয়ের কিছুটা পূরণ করা। তবে কুর্দিস্তান কর্তৃপক্ষ এখনও অনুমোদন দেয়নি।
ইরাকের তেল রপ্তানি মূলত বন্ধ রয়েছে, কারণ ইরান সম্প্রতি স্ট্র্যাটেজিক হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ করেছে। বিশ্বের তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই চোকপয়েন্ট দিয়ে যায়, যার মধ্যে ইরাকি তেলও রয়েছে। বাগদাদ সরকার বিকল্প পথ খুঁজছে, কারণ দেশটির রপ্তানি দেশটির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কুর্দিস্তান সরকার জানিয়েছে, তারা তেল রপ্তানি করতে চায়, বিশেষত বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একমাত্র স্থিতিশীল বাজার পথ। তবে তারা বাগদাদের ওপর আরোপিত ডলার নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে বলছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে দমন করা হচ্ছে বলে মত তাদের।
কুর্দিস্তান অঞ্চলকে বাদ দিয়ে দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে বাগদাদের নতুন ডিজিটাল শুল্ক ব্যবস্থা (অ্যাসিকুডা)। এই শুল্ক কুর্দ ব্যবসায়ীদের সরকারি মূল্যে ডলার পেতে বাধা দিচ্ছে। ফলে অঞ্চলকে ব্ল্যাকমার্কেট ডলারে নির্ভর করতে হচ্ছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেটের তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল।
প্রতিষ্ঠিত চুক্তি অনুযায়ী, কুর্দিস্তান সরকার শুল্ক আদায় করে, আয়ের একটি অংশ বাগদাদকে দেয় এবং বাকি ব্যবহার করে আঞ্চলিক সরকারের জন্য। তারা অ্যাসিকুডা সিস্টেম পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেনি, তবে বাগদাদের সীমাহীন নিয়ন্ত্রণে দিতে চায় না।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী অর্থ উপদেষ্টা মুধের মোহাম্মদ সালিহ বলেন, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে রপ্তানির স্থগিত হওয়ার প্রভাব এখনো দেখা যায়নি, তবে দুই মাসের মধ্যে প্রভাব দেখা যাবে। সরকার বেতনের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণের আশ্রয় নিতে পারে। তবে প্রায় পাঁচ মাসের জন্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা রয়েছে বলেও জানান সালিহ।
