বিএনপির মন্ত্রী পরিষদে সুযোগ পাচ্ছেন কারা?
পলাশ খান
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২২ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশের আগামী সরকারের প্রধানমন্ত্রীও হচ্ছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা। এই মন্ত্রিসভায় চমক থাকবে বলে আভাস দিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ইতোপূর্বে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন। নির্বাচনের ছয় দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর আভাসও দেওয়া হয়েছে।
গেল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ করাতে হবে। তবে জাতীয় সংসদের স্পিকার না থাকায় এ নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সংবিধানেই এর সমাধান আছে। সে অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, দলের চেয়ারম্যান দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের ভিন্নমাত্রা যোগ করেছেন। তার নেতৃত্ব এবং চিন্তা-চেতনার সঙ্গে যাদের মিল রয়েছে এবং যাঁদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন—এমন ব্যক্তিদেরকেই মন্ত্রিসভায় বেছে নেবেন তারেক রহমান। এই বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় অপেক্ষাকৃত তরুণদের প্রাধান্য দেখা যেতে পারে। তবে পরীক্ষিত প্রবীণেরাও মন্ত্রিসভায় থাকবেন, এটিও নিশ্চিত।
দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী ‘মব ভায়োলেন্স’ ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বিএনপি। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংসতার ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং নতুন সরকারের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন দলের চেয়ারম্যান।
বিএনপির সরকার কেমন হবে জানতে চাইলে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘যে সরকার হবে, সেই সরকার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক পথযাত্রার পর অনেক গুম, খুন, হামলা-মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অনেক শহীদের সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে। সুতরাং আমাদের নেতা ইনশাআল্লাহ শহীদদের মায়েদের যে প্রত্যাশা, সেটি পূরণ করবেন।
আগামীর বাংলাদেশে প্রত্যেক মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে, সমস্যার সমাধান করবে। এই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র অটুট রাখবে। এটি আমাদের নেতা সুনিশ্চিত করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
