যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি হত্যার কয়েকদিন আগে চ্যাটজিপিটির কাছে মরদেহ গুম করার উপায় জানতে চেয়েছিলেন। খবর এনবিসি নিউজের।
অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহয়ের (২৬) বিরুদ্ধে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি (দুজনের বয়স ২৭) হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। লিমনের মরদেহ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টির মরদেহ এখনও নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
প্রসিকিউটরদের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন আগে ১৩ এপ্রিল রাতে হিশাম চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেন, “কোনো মানুষকে কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেললে কী হয়?” চ্যাটবট এটিকে বিপজ্জনক বলে সতর্ক করলে তিনি আবার জানতে চান, “এটা কীভাবে ধরা পড়বে?”
এ বিষয়ে ওপেনএআই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
আরো পড়ুন : লিমন-বৃষ্টি হত্যার নেপথ্যে কী কারণ, জানালেন এফবিআই এজেন্ট
আদালতের নথিতে আরো বলা হয়েছে, ১৭ এপ্রিল আবুঘারবিয়েহকে তাদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কার্ডবোর্ডের বাক্স ডাম্পস্টারে ফেলতে দেখেন এক রুমমেট। পরে ওই ডাম্পস্টার থেকে লিমনের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়। সেখানে পাওয়া একটি ধূসর টি-শার্টে ডিএনএ পরীক্ষায় লিমনের উপস্থিতি মিলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইভাবে রান্নাঘরের একটি ম্যাটে পাওয়া ডিএনএ বৃষ্টির সঙ্গে মিলেছে।
শেরিফের তদন্তকারীরা জানান, লিমনের মরদেহ একটি ভারী আবর্জনার ব্যাগে পাওয়া যায়। সেখানে পচনের গন্ধ ছিল। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে, একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, বৃষ্টি এখনও জীবিত—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ধারণা করা হচ্ছে তার মরদেহও গোপন করা হয়েছে। রোববার অনুসন্ধানে মানবদেহের কিছু অংশ উদ্ধার হলেও সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফস অফিস।
প্রসিকিউটরদের দাবি, ১৬ এপ্রিল হিশাম লিমন ও বৃষ্টিকে ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বললেও তদন্তে জানা যায়, ওইদিন রাতে তিনি আবর্জনার ব্যাগ, জীবাণুনাশক ওয়াইপস ও এয়ার ফ্রেশনার কিনেছিলেন। তার অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।
এছাড়া বৃষ্টির গোলাপি ফোন কভারসহ বিভিন্ন আলামত ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তকারীরা তার বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে কাটা দাগ ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পান। তবে তিনি দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম দাবি করেন, তিনি লিমন ও বৃষ্টির অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানেন না এবং তারা কখনো তার গাড়িতে ওঠেননি। কিন্তু মোবাইল লোকেশন ডেটা দেখানোর পর তিনি বয়ান পরিবর্তন করে বলেন, লিমনের অনুরোধে তিনি তাদের ক্লিয়ারওয়াটারে নামিয়ে দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল তিনি হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় যান এবং কিছু সময় অবস্থান করেন। পরবর্তীতে ওই ব্রিজের পাশ থেকেই লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার এক সংক্ষিপ্ত অবরোধের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও হামলা, অবৈধভাবে আটকে রাখা, মৃত্যুর তথ্য গোপন, মরদেহ অবৈধভাবে সংরক্ষণ এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখা হয়েছে এবং মঙ্গলবার শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিহত লিমন ও বৃষ্টির পরিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তাদের মরদেহ ইসলামি বিধান অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের স্মরণে একটি স্মারক স্থাপনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
