ক্ষমতার চূড়ায় থেকেও যেসব কাজ করতে পারেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২১ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নামটি শুনলেই ভেসে ওঠে সীমাহীন ক্ষমতার এক প্রতিচ্ছবি। হোয়াইট হাউসে বসবাস, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান সব মিলিয়ে এই পদকে ঘিরে থাকে ব্যাপক প্রভাব ও ক্ষমতা। তবে এই ক্ষমতার আড়ালেই রয়েছে কঠোর কিছু বিধিনিষেধ। নিরাপত্তা, আইন, ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক নিয়মের কারণে এমন অনেক সাধারণ কাজ আছে, যা একজন সাধারণ নাগরিক অনায়াসে করতে পারলেও দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য তা প্রায় অসম্ভব বা পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
সম্প্রতি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন জীবনের কিছু চমকপ্রদ সীমাবদ্ধতা। সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষক কার্লা মাস্ত্রাক্কিও, সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ ডেভিন শিন্ডলার এবং রাজনৈতিক বিজ্ঞান অধ্যাপক জিম রোনান এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রেসিডেন্টের জীবন যেমন সুবিধাসম্পন্ন, তেমনি বিধিনিষেধে আবদ্ধ।

১. খোলা রাস্তায় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ
বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টদের খোলা সড়কে গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁদের যাতায়াত পুরোপুরি সিক্রেট সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে থাকে। সর্বশেষ যিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিজে গাড়ি চালিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন লিন্ডন বি. জনসন। তবে নিরাপত্তাবেষ্টিত ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা অবকাশ যাপনকেন্দ্রে সীমিত পরিসরে গাড়ি চালানোর সুযোগ রয়েছে।
২. সাধারণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন না
নিরাপত্তার কারণে দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টরা বাজারে সহজলভ্য মোবাইল ফোন বা ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন না। বারাক ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের ব্ল্যাকবেরি ব্যবহার নিয়ে বিশেষ অনুমতি নিয়েছিলেন। পরে তিনি বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত একটি কাস্টমাইজড আইপ্যাড ব্যবহার করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্বকালে একাধিক ‘বার্নার ফোন’ ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। একইভাবে জো বাইডেন পরিবর্তিত নিরাপত্তা-সংবলিত ডিভাইস ব্যবহার করতেন।
আরো পড়ুন : ইন্ডিয়া এআই সামিটে যোগ দিচ্ছেন না বিল গেটস

৩. সন্তানদের অনুষ্ঠানেও যাওয়া কঠিন
প্রেসিডেন্টের পরিবারের ওপরও এসব বিধিনিষেধ প্রভাব ফেলে। সন্তান বা নাতি-নাতনির স্কুলের অনুষ্ঠান বা খেলাধুলায় উপস্থিত হতে গেলে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নয়। নিরাপত্তার কারণেই অনেক প্রেসিডেন্টের সন্তান হোয়াইট হাউসের ভেতরেই পড়াশোনা করেছে।
৪. সামাজিক মাধ্যমে কাউকে ব্লক করতে পারেন না
২০১৮ সালে এক ফেডারেল আদালত রায়ে বলেন, দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্ট সামাজিক মাধ্যমে কাউকে ব্লক করতে পারেন না, কারণ তা নাগরিকের মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। ফলে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও থাকে কঠোর নজরদারি।
৫. বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে ভ্রমণ অসম্ভব
নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট কখনোই সাধারণ বাণিজ্যিক বিমানে ভ্রমণ করতে পারেন না। তাঁর জন্য নির্ধারিত বিশেষ বিমানই ব্যবহার করতে হয়। তাই সাধারণ এয়ারলাইনের টিকিট কেটে ভ্রমণের সুযোগ নেই।

৬. জানালা খোলা রাখাও নিষেধ
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হোয়াইট হাউস এবং প্রেসিডেন্টের যানবাহনের জানালা সাধারণত সিল করা থাকে। সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, স্বামীর মেয়াদ শেষে তিনি প্রথম যে সাধারণ কাজটি করতে চান, তা হলো জানালা খুলে তাজা বাতাস নেওয়া।
৭. নিজ অফিস পরিষ্কার বা নথি ফেলা যায় না
প্রেসিডেন্টিশিয়াল রেকর্ড আক্ট অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের সব সরকারি নথি, ইমেইল ও যোগাযোগ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। ফলে নিজের অফিস পরিষ্কার করা বা কোনো চিঠিপত্র ফেলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়াকড়ি নিয়ম।

শেষ কথা
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি, তবুও আইন অনুযায়ী তাঁকে সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষা গ্রহণ করতেই হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন (১৮ ইউএসসি ৩০৫৬) অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট সুরক্ষা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন না। ফলে ক্ষমতার চূড়ায় থেকেও তাঁর দৈনন্দিন জীবন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত ও সীমাবদ্ধ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদ যেমন সম্মান ও প্রভাবের প্রতীক, তেমনি এটি কঠোর নিয়ম ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতারও এক বাস্তব উদাহরণ।
