×

যুক্তরাজ্য

অ্যান্ড্রু এবং রাজা চার্লস, রাজকীয় ভাইদের ব্যক্তিগত যুদ্ধ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩০ এএম

অ্যান্ড্রু এবং রাজা চার্লস, রাজকীয় ভাইদের ব্যক্তিগত যুদ্ধ

ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর যদি কোনো কেলেঙ্কারিতে জড়ানো রাজনীতিবিদ, ব্যর্থ ফুটবল কোচ বা বিতর্কিত কোনো করপোরেট প্রধান হতেন, তবে হয়তো অনেক আগেই তাকে সরিয়ে দিয়ে ইতিহাসের আড়ালে পাঠানো হতো। কিন্তু রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে সেই স্বাভাবিক সমাপ্তি এখানে নেই। কারণ রাজপরিবার থেকে কাউকে বরখাস্ত করা যায় না, সে রকম কোনো নিয়মই নেই। জন্ম, মৃত্যু কিংবা বিবাহ, সবক্ষেত্রেই তারা পরিবারের অংশ হয়েই থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও কুখ্যাত যৌন কেলেঙ্কারিতে সাজাপ্রাপ্ত জেফ্রি এপস্টিনের ঘটনায় ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার ঘিরে আলোচনার আড়ালে রয়েছে দুই ভাইয়ের এক ব্যক্তিগত গল্পও। স্বভাব ও দায়িত্বে ভিন্ন এই দুই রাজপুত্র এখন পুলিশের তদন্তের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে। অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে ব্রিটেনের রাজা চার্লস জানিয়েছেন, আমরা পূর্ণ ও আন্তরিক সমর্থন এবং সহযোগিতা করছি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। খবর বিবিসির।

অর্থাৎ, পদমর্যাদা বা রাজকীয় পরিচয় আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এ বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। যদিও জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অ্যান্ড্রু সবসময়ই কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


তবে নিজের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে দূরত্ব বজায় রাখা রাজার জন্য নিঃসন্দেহে ব্যক্তিগতভাবে কঠিন মুহূর্ত ছিল। তিনি আনুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে ভাইকে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর বলে উল্লেখ করেন। রাজপ্রাসাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা গেছে, রাজা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন না, তিনি নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অ্যান্ড্রুকে নিয়ে রাজা এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল অবলম্বন করছিলেন, তা ছিল কখনও কঠোর, কখনও অভিভাবকসুলভ। প্রায় দেড় বছর আগে উইন্ডসরের রয়্যাল লজ থেকে অ্যান্ড্রুকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। অ্যান্ড্রুর আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ায় বিষয়টি ‘সিজ অব রয়্যাল লজ’ নামে আলোচিত হয়। শেষ পর্যন্ত এপস্টাইন ফাইল প্রকাশের পর সৃষ্ট ঝড়ে অ্যান্ড্রু সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। তবে পরে রাজা ব্যক্তিগত অর্থায়নে তাকে অন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেন রাজা।

আরো পড়ুন : ক্ষমা চাইলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

প্রাসাদের ভেতরে একটি সূক্ষ্ম প্রশ্ন সবসময়ই ছিল, রাজার কি ভাইয়ের প্রতি ‘দায়িত্ববোধ’ রয়েছে? বর্তমানে অ্যান্ড্রুকে ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি বাসস্থানের ব্যবস্থাও করছেন তিনি। কিন্তু সমালোচকদের আশঙ্কা, এটি যেন তদন্ত থেকে আড়াল করার প্রচেষ্টা হিসেবে না দেখা হয়। হেফাজত থেকে মুক্তির পর অ্যান্ড্রুর ক্লান্ত ও বিমর্ষ চেহারার ছবি জনমনে সেই উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে।


রাজার বিবৃতিতে কর্মরত রাজপরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যান্ড্রু আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি, আর অন্যরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন, এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।

দুই ভাইয়ের সম্পর্কের শেকড় শৈশবেই। অ্যান্ড্রুকে বলা হতো চঞ্চল ও দৃঢ়চেতা, মায়ের প্রিয় সন্তান। অন্যদিকে চার্লস ছিলেন ভাবুক, দায়িত্বশীল ও উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রস্তুত বড় ভাই। এপস্টাইন ফাইল অনুযায়ী, নিউইয়র্কে এক আলোচনায় অ্যান্ড্রু নিজেকে স্পেয়ার বা অতিরিক্ত উত্তরাধিকারী বলে উল্লেখ করেছিলেন। দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর শেষ পর্যন্ত সিংহাসনে বসেন সেই নীরব বড় ভাইই।

অ্যান্ড্রুর বাণিজ্য দূত হিসেবে সময়কাল নিয়েও এখন তদন্ত চলছে। ২০০১ সালে তাকে এ পদে নিয়োগের সময় চার্লস তার যোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বলে উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে। তবে তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের। ২০১১ সালে এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সেই দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত বিতর্কের মধ্যেই শেষ হয়। ব্রিটিশ কূটনীতিকদের কেউ কেউ তাকে তাচ্ছিল্য করে “হিজ বুফুন হাইনেস” বলেও উল্লেখ করেছিলেন বলে নথিতে উঠে এসেছে।


তবুও তিনি দীর্ঘদিন রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকেছেন, যা বড় ভাইয়ের ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। ২০২৫ সালে নতুন ইমেইল ফাঁস হওয়ার পর দেখা যায়, দাবি করার পরও এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন অ্যান্ড্রু, তখন রাজা চার্লস কঠোর পদক্ষেপ নেন। তার রাজকীয় মর্যাদা ও উপাধি প্রত্যাহার, বাসভবন ত্যাগ, জনসমক্ষে উপস্থিতি বন্ধ, সবই ছিল প্রত্যাশার চেয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তে প্রিন্স উইলিয়ামের ভূমিকা নিয়ে জল্পনা থাকলেও প্রাসাদ সূত্র জানায়, এসব ব্যবস্থা নিয়েছেন স্বয়ং রাজা।

রাজপরিবারের কর্মকর্তারা অ্যান্ড্রুর ধারাবাহিক বিতর্কে স্পষ্টতই বিরক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশ নিয়ে রাজার উদ্যোগ কিংবা প্রিন্স উইলিয়ামের সামাজিক বক্তব্য, সবই অ্যান্ড্রু সংক্রান্ত শিরোনামে চাপা পড়েছে। সব মিলিয়ে, রাজতন্ত্র এক অর্থে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। আর চলতি সপ্তাহে সেই প্রতিষ্ঠানে পরিবার নয়, প্রাধান্য পেয়েছে রাষ্ট্র ও আইন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

ইরান ইস্যুতে মতবিরোধ মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

হরমুজ প্রণালিতে কোনো অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স

হরমুজ প্রণালিতে কোনো অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App