হার্ট অ্যাটাকের ৪৮ ঘণ্টা আগেই দেখা যেতে পারে উপসর্গ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ ঘটলেও এর আগে শরীরে কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় এই লক্ষণগুলো সাধারণ সমস্যা বলে মনে হলেও সেগুলোই হতে পারে বড় বিপদের পূর্বাভাস। তাই উপসর্গগুলো আগে থেকেই চিনে নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
হৃদ্রোগ অনেক ক্ষেত্রে নিঃশব্দে এগিয়ে যায়। হার্টের ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধছে কি না, তা সহজে বোঝা যায় না। তবে রক্ত জমাট বেঁধে হৃৎস্পন্দন পুরোপুরি বিগড়ে যাওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ সুশান মুখোপাধ্যায়ের মতে, যাদের পরিবারে উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। একইভাবে যাদের রক্তচাপের ওঠানামা বেশি বা ডায়াবিটিস রয়েছে, তাদেরও ঝুঁকি বেশি।
আরো পড়ুন : ফ্যাটি কিডনি কতটা ভয়াবহ?
হার্ট অ্যাটাকের আগে অনেক সময় বুকে ব্যথার চেয়ে চাপ অনুভূত হয় বেশি। বুকের পাশাপাশি ঘাড়, চোয়াল বা তলপেটে চাপ লাগা, হাত ও ঘাড়ে একটানা ব্যথা, মাথা ঘোরা বা বমি ভাব এসব লক্ষণ দেখা দিলে গুরুত্ব দিতে হবে।
চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে একটি লক্ষণ বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে, বিশ্রামের সময়ও বুক ধড়ফড় করা। সাধারণত একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক মানুষের বিশ্রামকালীন হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ৮০ বার থাকে। যদি তা ১০০ ছাড়িয়ে যায়, তবে তা সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। হৃৎস্পন্দনের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া উভয়ই ক্ষতিকর। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া বলা হয়, যা হৃদ্যন্ত্রের ওপরের প্রকোষ্ঠ অ্যাট্রিয়া বা নিচের প্রকোষ্ঠ ভেনট্রিকলে দেখা দিতে পারে। যাদের শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রার ওঠানামা বেশি হয়, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া পেটের ওপরের দিকে অস্বস্তি, বদহজম বা বুকজ্বালার মতো সমস্যাও হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। অনেকেই এগুলোকে অম্বল ভেবে ওষুধ খান, কিন্তু হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালিতে ব্লকেজ থাকলেও এমন অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের কয়েক দিন আগে থেকে অনিদ্রা, মাঝরাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্টে ঘুম ভেঙে যাওয়া, ঘাম হওয়া বা দমবন্ধ লাগার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
অন্যদিকে, হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীকে শুইয়ে দিয়ে ঘাড়ে পানি বা ভেজা তোয়ালে রাখতে হবে। হাতের কাছে অ্যাসপিরিন থাকলে ১৫০ মিলিগ্রামের দুটি ট্যাবলেট খাওয়ানো যেতে পারে। এরপর জিভের নিচে সরবিট্রেট দেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
