ফ্যাটি কিডনি কতটা ভয়াবহ?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হার্টের পরীক্ষা বা সুগার টেস্ট নিয়মিত করালেও কিডনির পরীক্ষা সাধারণত অনেকেই করান না, অন্তত সমস্যা শুরু না হওয়া পর্যন্ত। অথচ বর্তমানে কিডনির বিভিন্ন রোগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে কিডনি সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে কিডনির ক্রনিক রোগে কমবয়সিদের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। কিডনিতে পাথর জমা, সংক্রমণ এবং পলিসিস্টিক কিডনির মতো সমস্যাও এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি তুলনামূলক কম পরিচিত একটি সমস্যা হলো ফ্যাটি কিডনি। ফ্যাটি লিভারের মতোই কিডনিতেও মেদ জমতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, স্থূলত্ব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস থাকলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
আরো পড়ুন : থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে যে খবারগুলো রাখবেন প্রতিদিনের তালিকায়
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় কিডনির কেন্দ্রস্থলে থাকা গহ্বরকে রেনাল সাইনাস বলা হয়। এই অংশ দিয়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম শিরা–ধমনী ও রক্তজালিকা প্রবাহিত হয়। এখান দিয়েই রক্ত সঞ্চালন হয় এবং শরীরের বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এই অংশে বা আশপাশে মেদ জমতে শুরু করলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। এতে কিডনির ভেতরে চাপ বাড়তে পারে, সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয় এবং প্রস্রাবের সমস্যা, কিডনিতে পাথর বা উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মতে, যাদের ছোটবেলা থেকেই স্থূলতার সমস্যা রয়েছে বা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আছে, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে রক্তে কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড অতিরিক্ত বেড়ে গেলেও কিডনির এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্যাটি কিডনি প্রতিরোধে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাজাপোড়া ও ফাস্ট ফুড কম খাওয়া, বাজারজাত পানীয় পরিহার করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা প্রয়োজন। হাঁটা, দৌড়ানো বা নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি সিরাম ক্রিয়েটিনিন টেস্ট, ইউরিন ডিপস্টিক টেস্ট এবং ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেন পরীক্ষা সময়মতো করালে কিডনির সমস্যা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব।
