×

মুক্তচিন্তা

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস

রাষ্ট্র যখন ‘না’ এর পাহাড় জমায়

Icon

মাহফুজ খান

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

রাষ্ট্র যখন ‘না’ এর পাহাড় জমায়

মুক্তচিন্তা: রাষ্ট্র যখন ‘না’ এর পাহাড় জমায়

‘সাংবাদিকতা’ নামটির সাথে জড়িয়ে থাকে সমাজ বদলের কারিগর হওয়া কিংবা সত্য প্রকাশের অদম্য সাহস। কিন্তু এই গ্ল্যামারাস পরিচয়ের আড়ালে থাকা মানুষগুলোর জীবনের হিসেব কষলে প্রাপ্তির খাতায় কেবল এক সুবিশাল ‘না’ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। যে সমাজ ও রাষ্ট্রের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে একজন সংবাদকর্মী দিনরাত পার করেন, সেই রাষ্ট্রযন্ত্রই যেন তার জন্য সাজিয়ে রেখেছে বঞ্চনার এক মহাভারত।

দেশের সাংবাদিকতা জগতে এখন সবচেয়ে বড় সংকট হলো পেশাগত সংজ্ঞার ধোঁয়াশা। কারুকার্যময় প্রেস কার্ড থাকলেও নেই কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়োগ নীতিমালা। একজন সংবাদকর্মীর কর্মজীবনের প্রতিটি বাঁকে কেবল ‘নেই’ শব্দের প্রতিধ্বনি:

আর্থিক অনিশ্চয়তা: সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো, বোনাস কিংবা পেনশনের কোনো বালাই নেই। বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত কিংবা চিকিৎসা ভাতার মতো মৌলিক চাহিদাগুলোও এখানে বিলাসিতা।

সরঞ্জামের অভাব: কৃষকের জন্য ভর্তুকি মূল্যে ট্রাক্টর বা সারের ব্যবস্থা থাকলেও, সাংবাদিকের পেশাগত প্রধান হাতিয়ার ক্যামেরা, ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোনটি কিনতে হয় নিজের পকেট কেটে।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আক্ষেপ: সরকারি ফর্মে পেশার ঘরে আজও জোরালো জায়গা পায়নি সাংবাদিকতা। এমনকি স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ে এই মহান পেশা নিয়ে নেই কোনো অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়।

পরিবারের নিরাপত্তা: সাংবাদিকের সন্তানের জন্য কোনো শিক্ষা বৃত্তি বা বিশেষ কোটা নেই। এমনকি পরিবহনে ভাড়ার ক্ষেত্রেও নেই ন্যূনতম সৌজন্যমূলক ছাড়।

এতসব বঞ্চনার ভিড়ে একজন সৎ সাংবাদিকের ভাগ্যে যা জোটে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরলেই শুরু হয় প্রতিশোধের রাজনীতি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিক যখন মামলার বাদী হন, তখন পুলিশ বছরের পর বছর আসামি খুঁজে পায় না। অথচ সাংবাদিক যখন কোনো প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়ে আসামি হন, তখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তাকে খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি হয়ে ওঠে অতি সক্রিয়। সাইবার নিরাপত্তা বা ডিজিটাল আইনের মারপ্যাঁচে সুরক্ষার বদলে সাংবাদিকরাই বারবার নিগৃহীত হচ্ছেন। মিথ্যা মামলা, চরিত্র হনন আর গোপন হামলার শঙ্কা যেন এখন এই পেশার অলিখিত উপজাত (By-product)।

সমাজের দর্পণ হিসেবে পরিচিত এই মানুষগুলোর জন্য রাষ্ট্র যখন সব প্রাপ্তির দুয়ার বন্ধ করে রাখে, তখন গণতন্ত্রের ভিত কতটা মজবুত থাকে- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সাংবাদিক কেবল প্রশ্নকর্তা নন, তিনি রাষ্ট্রের স্তম্ভ।

নিউজ পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট মহলের আলোচনায় উঠে এসেছে, এই ‘না’-এর বৃত্ত ভাঙার সময় এখনই। রাষ্ট্র ও সমাজ যদি সাংবাদিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ না নেয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই পেশা থেকে মেধাবীদের বিমুখতা ঠেকানো দায় হয়ে পড়বে। সাংবাদিকতার আকাশে কবে এক চিলতে ‘হ্যাঁ’-এর সূর্য উদিত হবে, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন হাজারো মাঠকর্মী।

লেখক: সংবাদকর্মী

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

হামে শিশুমৃত্যুর বিচার চেয়ে গ্রামীণ ব্যাংক ভবনের সামনে মানববন্ধন

হামে শিশুমৃত্যুর বিচার চেয়ে গ্রামীণ ব্যাংক ভবনের সামনে মানববন্ধন

চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক

চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক

‘সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের কেউ বাদ যাবে না’

‘সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের কেউ বাদ যাবে না’

গণভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের সঙ্গেই প্রতারণা করছেন

মিয়া গোলাম পরওয়ার গণভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের সঙ্গেই প্রতারণা করছেন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App