জেলা প্রশাসক সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি
অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে ডিসিদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১০:০১ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি অভিযোগ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ‘গত বছর ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পাইনি। গত বছর যে সরকার ছিল, তারা রাষ্ট্রপতিকে বঞ্চিত করেছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই প্রথা আবার চালু করায় ধন্যবাদ জানাই।’
রোববার (৩ মে) রাতে বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন উপলক্ষ্যে বঙ্গভবনে আগত ডিসিদের উদ্দেশে একথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন সরকারের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। মাঠ পর্যায়ের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
রাষ্ট্রপতি জেলা প্রশাসকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে দ্রুত সমাধান দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সহজ ও মানসম্মত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও অপচয় রোধের ওপরও জোর দেন তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবেলার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে সারা বিশ্বে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। বৈধ জ্বালানি মজুদদারি রোধ এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিংসহ অন্যান্য কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে।
গুজব, অপতথ্য ও অনলাইন অপরাধ দমনে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, নারী ও শিশু সুরক্ষা, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রশাসনের সব স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
