×

মুক্তচিন্তা

কিশোর-কিশোরীদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার অশ্লীলতার প্রভাব

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২২, ১২:৩৯ এএম

কিশোর-কিশোরীদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার অশ্লীলতার প্রভাব

সোশ্যাল মিডিয়ায় বা ফেসবুকের টাইমলাইন, নিউজফিড অশ্লীল সংবাদ, ছবি, ভিডিও প্রচার বর্তমান সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। যা আমাদের তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে ফেসবুক ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অশ্লীল চ্যাট, শেয়ার, ভিডিও কল তরুণ ও কিশোর-কিশোরীদের মাঝে এক নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসছে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নারীর অশ্লীল শরীরের চিত্র ও ভিডিও প্রচার এবং তা দর্শন করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে অশ্লীল অবাস্তব প্রত্যাশা, ঝুঁকি, আচরণের অস্বাভাবিকীকরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে আসছে। এতে নারীরা বিশেষ করে ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, কিশোর-কিশোরীদের ওই বয়সে মানসিক স্বাস্থ্য বিকশিত হতে থাকে এবং ব্যক্তি হিসেবে তাদের নিজস্ব পরিচয় বিকাশ লাভ করে। বয়ঃসন্ধিকাল ঝুঁকি গ্রহণের একটি সময়, যা একদিকে শক্তি এবং দুর্বলতা উভয়ই। সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকের অশ্লীল সংবাদ, ছবি, ভিডিও প্রচার তরুণ প্রজন্মের মানসিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন আমরা বর্তমানে তরুণদের অপরাধ প্রবণতার বৃদ্ধি দেখেছি। বর্তমানে ফেসবুক ডিপ্রেশন বা ‘ফেসবুক বিষণ্নতা’ যা কিশোর-কিশোরীদের বিষণ্নতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কিশোর-কিশোরীরা ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে প্রচুর সময় ব্যয় করার ফলে বিষণ্নতার লক্ষণগুলো প্রকাশ করে। অফলাইন বিষণ্নতার মতো, প্রাক-কৈশোর এবং কিশোর-কিশোরীরা যারা ঋধপবনড়ড়শ বিষণ্নতায় ভোগে তারা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে থাকে এবং কখনো কখনো আক্রমণাত্মক বা আত্মধ্বংসাত্মক আচরণ করতে। কিশোর-কিশোরীদের বিকাশমান মস্তিষ্কই অনলাইনে অনেক বেশি সময় থাকার ফলে কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে। সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার সামাজিক কার্যকলাপ হ্রাস এবং একাকিত্ব বৃদ্ধিসহ বিষণ্নতার লক্ষণগুলো তীব্রতর করে। সোশ্যাল মিডিয়ার দীর্ঘায়িত ব্যবহার হতাশা, উদ্বেগ এবং কম আত্মসম্মানবোধের লক্ষণ ও উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিশোর-কিশোরীরা প্রায়ই তাদের সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে আবেগগতভাবে পোস্ট করার তাড়না অনুভব করে। তারা অনলাইনে দ্রুত সাড়া পাওয়ার চাপ অনুভব করে। তারা নিখুঁত ফটো এবং ভালো-লিখিত পোস্টের জন্য চাপ অনুভব করে, যার সবই অনেক বেশি উদ্বেগের কারণ হয়। প্রকৃতপক্ষে একজন কিশোর-কিশোরীর সামাজিক বৃত্ত অনলাইনে যত বড় হয় তারা অনলাইনে সবকিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ব্যাপারে তত বেশি উদ্বেগ অনুভব করে। ফলস্বরূপ, এটি কিশোর-কিশোরীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা উদ্বেগের অনুভূতি সৃষ্টি করে। অনেক কিশোর-কিশোরী, বিশেষ করে মেয়েরা, অন্যরা তাদের সম্পর্কে কী ভাববে এবং তারা যখন তাদের পরবর্তীতে দেখবে তখন তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে। কখনো কখনো কিশোররা সোশ্যাল মিডিয়াতে এত বেশি ঘণ্টা ব্যয় করে যে তারা মূল্যবান ঘুম হারাতে শুরু করে। ফলস্বরূপ, এই ঘুমের ক্ষতি মেজাজ, গ্রেড হ্রাস, শারীরিক কার্যকলাপের অভাব এবং অতিরিক্ত খাওয়ার পাশাপাশি বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং মনোযোগের ঘাটতি হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডারের (অউঐউ) মতো বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে আরো বাড়িয়ে তোলে। যেমন ফোকাস করতে অসুবিধা, মানসিক নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল মনোযোগ, হাইপার অ্যাকটিভিটি এবং পর্যাপ্ত ঘুম। সুতরাং মধ্যরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় লগইন করা তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। উদাহরণস্বরূপ, ক্লান্ত এবং খিটখিটে বোধ করা ছাড়াও ঘুমের অভাব দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং কিশোর-কিশোরীদের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন করে তোলে। ঈর্ষা এবং হিংসা- যদিও স্বাভাবিক আবেগ- তবুও ফেসবুকের পোস্ট দেখে তারা তাদের সমবয়সিদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে, যা কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কে বিপর্যয় ঘটাতে পারে। অন্য কারোর যা আছে বা অভিজ্ঞতা আছে তার নেই, এ ধরনের তুলনা তাকে অতি মাত্রায় বিষণ্ন করে তুলে। ফেসবুকে সবাই যা পোস্ট করে, যাতে প্রদর্শিত হয় যে সে অন্যদের চেয়ে বেশি উত্তেজনাপূর্ণ বা আনন্দদায়ক জীবনযাপন করে। দুর্ভাগ্যবশত, কিশোর-কিশোরীরা প্রায়ই বুঝতে পারে না, লোকেরা শুধু তাদের ‘হাইলাইট রিল’ সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে এবং প্রায়ই জাগতিক বা কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোকে ইন্টারনেটের বাইরে রাখে। উপসংহারে বলতে হয় সরকারকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা ফেসবুকের টাইমলাইন, নিউজফিডে অশ্লীল সংবাদ, ছবি, ভিডিও প্রচার প্রদর্শনী বাংলাদেশে বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। মা-বাবাদের উচিত তাদের তরুণ ও কিশোর-কিশোরী সন্তানদের সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা ও পরামর্শ দেয়া এবং অপব্যবহার বা অতিরিক্ত ব্যবহার করা হলে তাদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তাদের সতর্ক করা। শিক্ষার পাঠ্যক্রমটিও সংশোধন করা উচিত যাতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা যায় যে তাদের সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

অভিজিৎ বড়ুয়া অভি : কবি ও লেখক, ঢাকা। avijitbarua3@gmail.com

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে সরকারি চাল জব্দ

জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে সরকারি চাল জব্দ

চলতি সপ্তাহে তিন বিভাগে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

চলতি সপ্তাহে তিন বিভাগে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

শুধু অর্থ আত্মসাৎ নয়, দায়িত্বে গাফিলতিও দুর্নীতির অংশ

ডেপুটি স্পিকার শুধু অর্থ আত্মসাৎ নয়, দায়িত্বে গাফিলতিও দুর্নীতির অংশ

রমনার নতুন ডিসি জাহিদুল, ট্রাফিকে মিনা মাহমুদ

রমনার নতুন ডিসি জাহিদুল, ট্রাফিকে মিনা মাহমুদ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App