×

চট্টগ্রাম

‘গ্রিন সিগন্যাল’ সংকেতে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র

Icon

বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

‘গ্রিন সিগন্যাল’ সংকেতে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র

ছবি : ভোরের কাগজ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সীমান্তঘেঁষা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, কসবা ও বিজয়নগর উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও চোরাচালানের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সীমান্ত ব্যবহার করে মাদকসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য দেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান চক্র। মোবাইল ফোনে সংকেতের মাধ্যমে ‘লাইন ক্লিয়ার’ ঘোষণা দেওয়া হয়, এরপর শুরু হয় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের কার্যক্রম। কাঁটাতারের বেড়া, খাল ও কালভার্ট ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে চোরাকারবারিরা ভারতে প্রবেশ করে মালামাল সংগ্রহ করে আবার দেশে ফেরে।

এভাবে গাঁজা, মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা, স্কফসহ বিভিন্ন মাদক ছাড়াও কাপড়, কসমেটিকস, মোবাইল ও অন্যান্য পণ্য অবৈধভাবে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি কসবা সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিহত কলেজছাত্র মোরসালিন ও নবীর হোসেনের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। তিনি সীমান্ত হত্যা অব্যাহত থাকলে লংমার্চ কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন।

গত দুই বছরে আখাউড়া, কসবা ও বিজয়নগর উপজেলায় বিএসএফের গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে এসব কার্যক্রম বিস্তৃত। সীমান্তের কিছু এলাকায় কাঁটাতারের ঘাটতি ও নদীপথ থাকায় চোরাচালান সহজ হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্র ও লেবারদের সহযোগিতায় শত শত সীমান্ত পয়েন্ট ব্যবহার করে এসব পণ্য আনা-নেওয়া হচ্ছে। রাতের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা ‘লাইন ক্লিয়ার’ সংকেতের ভিত্তিতে পুরো নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ‘লেবার’ বা বহনকারি কাজের বিনিময়ে ৫০০ থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজের কারণে তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই চক্রে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ ভোরের কাগজকে জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। বিজয়নগরের একটি ইউনিয়নেই ৬০টির বেশি মাদক স্পট চিহ্নিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, সুলতানপুর (৬০ বিজিবি) ও সরাইল (২৫ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধীনে সীমান্ত এলাকায় চলতি বছরে কোটি কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তবে সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। সীমান্ত এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে মাদক ও চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে সরকারি চাল জব্দ

জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে সরকারি চাল জব্দ

চলতি সপ্তাহে তিন বিভাগে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

চলতি সপ্তাহে তিন বিভাগে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

শুধু অর্থ আত্মসাৎ নয়, দায়িত্বে গাফিলতিও দুর্নীতির অংশ

ডেপুটি স্পিকার শুধু অর্থ আত্মসাৎ নয়, দায়িত্বে গাফিলতিও দুর্নীতির অংশ

রমনার নতুন ডিসি জাহিদুল, ট্রাফিকে মিনা মাহমুদ

রমনার নতুন ডিসি জাহিদুল, ট্রাফিকে মিনা মাহমুদ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App