×

তথ্যপ্রযুক্তি

চীনা বিজ্ঞানীদের মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

চীনা বিজ্ঞানীদের মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত

ছবি : সংগৃহীত

চীনের বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্ব গবেষণায় নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক একটি উন্নত মডেলের মাধ্যমে তারা গভীর মহাকাশ পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়েছেন, যা প্রাচীন ও দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলোকে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে সহায়ক হবে।

১. আসটেরিস (ASTERIS) : নতুন যুগের টেলিস্কোপ সহায়ক

সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল এই বিশেষ মডেলটি তৈরি করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল স্প্যাশিওটেমপোরাল এনহান্সমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর ইমেজ সিনথেসিস' বা সংক্ষেপে 'আসটেরিস'। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত 'সায়েন্স' সাময়িকীতে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

২. ১৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সি শনাক্ত

গবেষকদের দাবি, এই মডেলটি মহাকাশের অত্যন্ত ক্ষীণ বা অস্পষ্ট সংকেতগুলোকেও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। এমনকি পৃথিবী থেকে ১৩ বিলিয়ন (১,৩০০ কোটি) আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্যালাক্সিগুলোকেও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি ৫০০ ন্যানোমিটার থেকে ৫ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ সীমা বা কভারেজ দিতে সক্ষম।

৩. আসটেরিস-এর বিশেষত্ব : স্প্যাশিওটেম্পোরাল ডি নয়েজিং

প্রচলিত পদ্ধতিতে মহাকাশের ছবি থেকে ‘নয়েজ’ বা অপ্রয়োজনীয় সংকেত দূর করতে অনেক ছবিকে একত্রে জোড়া দেওয়া হতো (Exposure Stacking)। কিন্তু মহাকাশের সংকেতগুলো স্থান ও কাল (Space and Time) ভেদে পরিবর্তনশীল হওয়ায় আগের পদ্ধতিগুলো সবসময় নিখুঁত হতো না।

আসটেরিস যেভাবে কাজ করে

এটি মহাকাশের ছবিগুলোকে ত্রিমাত্রিক 'স্প্যাশিওটেম্পোরাল ভলিউম' হিসেবে পুনর্গঠন করে। এতে থাকা 'ফটোমেট্রিক অ্যাডাপ্টিভ স্ক্রিনিং মেকানিজম' অতি সূক্ষ্ম সংকেতের ওঠানামা বুঝতে পারে। ফলে মহাজাগতিক অস্পষ্ট সংকেত থেকে নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির মূল আলো আলাদা করা সহজ হয়, যা সংকেত শনাক্তকরণ ক্ষমতাকে প্রায় আড়াই গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

৪. বিগ ব্যাং-পরবর্তী সময়ের গ্যালাক্সি আবিষ্কার

এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের মাত্র ২০ থেকে ৫০ কোটি বছর পরের সময়কার প্রায় ১৬০টিরও বেশি সম্ভাব্য গ্যালাক্সি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি মহাবিশ্বের জন্ম ইতিহাস পর্যালোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

৫. ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

বিজ্ঞানীদের মতে, আসটেরিস প্রযুক্তিটি আগামী প্রজন্মের টেলিস্কোপগুলোতে যুক্ত করা হলে মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে ডার্ক ম্যাটার (অদৃশ্য পদার্থ), ডার্ক এনার্জি এবং মহাবিশ্বের প্রকৃত উৎস সংক্রান্ত জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

চীনের এই উদ্ভাবন প্রমাণ করে যে, মহাকাশ বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আসটেরিস-এর হাত ধরে আমরা হয়তো খুব শীঘ্রই মহাবিশ্বের এমন সব প্রান্তের দেখা পাব, যা এতদিন মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ফিফার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছে ইরান

ফিফার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছে ইরান

জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত

জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

সিলেটে ৭৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেটে ৭৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App