বন্ধুর কুড়ালের আঘাতে প্রাণ আরেক বন্ধুর
বদরুল ইসলাম মহসিন, বিশ্বনাথ (সিলেট)
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের বিশ্বনাথে তুচ্ছ ঘটনার জেরে বন্ধুর কুড়ালের আঘাতে শাহ আলম (২৫) নামের এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল আড়াইটার দিকে রামপাশা ইউনিয়নের ধলিপাড়া গ্রামের পশ্চিম মাঝপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যার পর বিবস্ত্র অবস্থায় পালানোর চেষ্টা করেন মিজানুর। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে স্থানীয় জনতা ঘাতক মিজানুরকে তাদের হাতে তুলে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালসহ ঘাতক মিজানুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ।
ঘাতক মিজানুর ধলিপাড়া গ্রামের বিশ্বনাথ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক বশির উদ্দিনের পুত্র।
নিহত শাহ আলম পার্শ্ববর্তী খাজাঞ্চী ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের ছিফত উল্লাহর পুত্র। তিনি স্থানীয় হানিফ শাহ মাজারের খাদেম ছিলেন।
নিহতের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে (শাহ আলম) মিজানুরের কাছে টাকা পায় আর আজ (বুধবার) সেই টাকা চাইতে গেলে সে (মিজানুর) আমার ছেলেকে হত্যা করে| আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক মিজানুর ও নিহত শাহ আলমের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনও চলত। ঘটনার দিন পাওনা টাকা চাইতে মিজানুরের বাড়িতে যান শাহ আলম। এ সময় টাকা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে প্রচণ্ড কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজানুর উত্তেজিত হয়ে শাহ আলমকে বাড়ির সামনের রাস্তায় নিয়ে কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় শাহ আলমকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই জিল্লুর আলম সাইফুল বলেন, ‘মিজান কল করে আমার ভাইকে তার বাড়ি নিয়ে যায়| আমার ভাইর লগে টাকা আসিল, হয়তো আমার ভাই টাকা না-দেওয়ার কারণে আমার ভাইরে মারছে।’
ঘাতকের পিতা বশির উদ্দিন বলেন, ‘তারা দুজনেই মদ-গাজা ও নেশা করে, হতে পারে তাদের মধ্যে এসব নিয়ে ঘটনা হয়েছে।’
হত্যাকাণ্ড এবং ঘাতককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগরের সার্কেল) মানছুরা আক্তার বলেন, ‘ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে, তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
