সিলেট টেস্ট
প্রথম সেশনেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
সিলেট টেস্টের প্রথম সেশনটা মোটেও ভালো গেল না বাংলাদেশের। টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি (লাঞ্চ) পর্যন্ত ৩ উইকেটে ১০১ রান তুলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অধিনায়ক শান্ত ২৬ ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ১৮ রানে অপরাজিত আছেন।
শনিবার (১৬ মে) সকালে মেঘলা আবহাওয়া আর নতুন বলের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগায় পাকিস্তান। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেন মোহাম্মদ আব্বাস। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে সালমান আগার হাতে ক্যাচ দেন জয়। শূন্য রানেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
শুরুতে উইকেট হারালেও অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম ও মুমিনুল হক কিছুটা পাল্টা প্রতিরোধ গড়েন। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখায় তানজিদকে। আব্বাসকে কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে রানের খাতা খোলার পর খেলেন আরও কিছু দৃষ্টিনন্দন শট।
তবে ভালো শুরুটা বড় করতে পারেননি তানজিদ। ৩৪ বলে ৩টি চারে ২৬ রান করে সেই আব্বাসের বলেই আউট হন তিনি। শর্ট অব লেংথ বল ওড়াতে গিয়ে টপ এজড হয়ে বোলারের হাতেই ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
তানজিদের বিদায়ের পর টিকতে পারেননি মুমিনুলও। খুররম শাহজাদের ভেতরে ঢোকা এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন তিনি। ৪১ বলে ২২ রান করেন সাবেক এই অধিনায়ক। এতে ৬৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
চতুর্থ উইকেটে হাল ধরেন শান্ত ও মুশফিক। পাকিস্তানি পেসাররা শর্ট বল ও মুভমেন্ট দিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করলেও এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি। লাঞ্চ পর্যন্ত দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে আসে ৩৮ রান। পাকিস্তানের পক্ষে ৭ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস। খুররম শাহজাদ পেয়েছেন ১ উইকেট।
এদিকে প্রথম সেশনে একটি উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী হয় ম্যাচটি। তানজিদের একটি শট আটকাতে গিয়ে ডাইভ দেওয়ার সময় মাথায় আঘাত পান ফিল্ডার হাসান আলী। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। পাকিস্তান দল তাঁর কনকাশন বদলি নামানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে ধারাভাষ্যে জানানো হয়েছে।
মিরপুরে প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। সিলেটে সিরিজ নিজেদের করতে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের বিকল্প নেই শান্তদের। তবে প্রথম সেশনের লাগাম এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের হাতেই।
