রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ, একদিন পরই ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি যুবক নিহত
হাফিজুল ইসলাম স্বপন, ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদানের একদিন পরই ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আব্দুর রহিম। তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত রহিম উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আজিজুল হকের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাত বছর সিঙ্গাপুরে প্রবাসজীবন কাটানোর পর প্রায় ১৮ মাস আগে রাশিয়ায় যান রহিম। সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করছিলেন তিনি। পরে এক দালালের মাধ্যমে রাশিয়ার নাগরিকত্ব ও ৪০ লাখ টাকার প্রলোভনে পড়ে গত ১ মে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। যোগদানের পরদিন ২ মে ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন তিনি। একই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রহিমের মৃত্যুর খবর প্রথমে তাঁর বন্ধু লিমন দত্ত ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিবারকে জানান। নরসিংদীর বাসিন্দা লিমন নিজেও ওই ক্যাম্পে ছিলেন। হামলায় তিনি একটি পা হারিয়ে বর্তমানে রাশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত রহিমের মামা শামীম হোসেন মিয়া বলেন, “রহিম বিদেশ থেকে ফিরে বাড়ি নির্মাণ করে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু তার আর ফেরা হলো না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”
আজ মঙ্গলবার সকালে রহিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ভাঙা ঘরে ছেলের শোকে বিলাপ করছেন তাঁর মা রহিছা খাতুন। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ, পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রওশন জাহান ও থানা-পুলিশের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নিহতের বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, “রহিম সংসারের বড় ছেলে ছিল। ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনা ও সংসারের দায়িত্ব সে-ই চালাত। ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন আমাদের কী হবে?”
রহিমের ছোট ভাই হাফেজ আব্দুর রহমান বলেন, “আমাদের ভাঙা বাড়ি আর ঋণের বোঝা এখন আরও বেড়ে গেল। আমরা শুধু চাই, ভাইয়ের মরদেহটা দেশে আসুক, শেষবারের মতো মুখটা দেখতে চাই।”
