ইতেকাফে বসার আগে জানতে হবে যেসব বিষয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
ফাইল ছবি
ইতেকাফ হলো রমজান মাসের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। দুনিয়াবি ব্যস্ততা ত্যাগ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ এটি। রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া; অর্থাৎ মহল্লার অন্তত একজন এটি আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হবে, অন্যথায় সবাই গুনাহগার হবে।
ইতেকাফের জন্য ২০ রমজান সূর্যাস্তের আগেই মসজিদে প্রবেশ করতে হবে। সূর্যাস্তের পর বা মাগরিবের পর প্রবেশ করলে সুন্নত ইতেকাফ হবে না, তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। এই ইতেকাফ শেষ হবে ঈদের চাঁদ দেখার দিন সূর্যাস্তের পর।
ইতেকাফের প্রকারভেদ ও শর্তাবলি
ইতেকাফ মূলত তিন প্রকার: সুন্নত (রমজানের শেষ ১০ দিন), ওয়াজিব (মানত পূরণের জন্য) এবং নফল (যেকোনো সময়)। ইতেকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত করা, পুরুষদের ক্ষেত্রে জামাত হয় এমন মসজিদে অবস্থান করা এবং শরীর পবিত্র রাখা আবশ্যক। এছাড়া সুন্নত ও ওয়াজিব ইতেকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত।
ইতেকাফ যেসব কারণে ভেঙে যায়
ইতেকাফকারী বিশেষ প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক প্রয়োজন (প্রস্রাব-পায়খানা ও ফরজ গোসল), শরিয় প্রয়োজন (জুমার নামাজ আদায়ের জন্য অন্য মসজিদে যাওয়া) এবং আজান দেওয়া। এছাড়া খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে খাবার আনতে বাইরে যাওয়া যাবে।
তবে নির্দিষ্ট কিছু কারণে ইতিকাফ ভেঙে যায়:
অপ্রয়োজনীয় প্রস্থান: কারণ ছাড়া মসজিদ থেকে বের হওয়া বা প্রয়োজনে বের হয়ে দেরি করা।
নফল গোসল: শরীর ঠান্ডা করতে সাধারণ গোসলের জন্য বের হওয়া (তবে ভেজা গামছা দিয়ে শরীর মোছা যাবে)।
জানাজা ও রোগী দেখা: সুন্নত ইতেকাফে শুধু এই উদ্দেশ্যে বের হওয়া যাবে না।
পার্থিব কাজ: ব্যবসায়িক লেনদেন বা দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে মসজিদ ত্যাগ করা।
শারীরিক সম্পর্ক: ইতেকাফ অবস্থায় রাতেও স্ত্রী-সহবাস নিষিদ্ধ।
বিনিময় প্রথা: টাকার বিনিময়ে কাউকে ইতেকাফে বসানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
নারীদের জন্য ইতেকাফ
নারীদের জন্য নিজ ঘরের নির্দিষ্ট কোনো কক্ষে ইতেকাফ করা উত্তম। তবে মসজিদে পর্দা ও প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা থাকলে সেখানেও ইতেকাফ করা বৈধ। নারীদের ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং ঋতুস্রাব শুরু হলে ইতেকাফ ছেড়ে দিতে হবে।
প্রস্তুতি ও করণীয়
ইতেকাফে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বিছানাপত্র, পোশাক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী এবং ধর্মীয় বই ও তসবিহ গুছিয়ে নেওয়া উচিত। অপ্রয়োজনীয় কথা ও মোবাইল ব্যবহার বর্জন করে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদতে সময় কাটানোই ইতেকাফের মূল লক্ষ্য।
