পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, দুই দিন পর ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরবর্তীতে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় প্রায় দুই দিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর ওই ২৮ জনকে নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত পর্যন্ত ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন। তবে শনিবার সকাল থেকে তাদের আর সেখানে দেখা যায়নি। বিজিবির গোয়েন্দা তথ্য ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিএসএফ তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে।
তিনি আরো জানান, সীমান্তে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর এলাকা দিয়ে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ২৮ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। ওই দলে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশু ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা এবং দুপুর আড়াইটায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে অবস্থান করলে সে বিষয়ে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তবে রাতের আঁধারে কাউকে পুশইনের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জবাবে বিএসএফ জানায়, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ওই ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই পতাকা বৈঠক শেষ হয় এবং ২৮ জনকে শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে হয়।
এ সময় বিজিবির অনুরোধে বিএসএফ তাদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে টানা বৃষ্টির মধ্যে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ব্যক্তিরা একটি আমগাছের নিচে আশ্রয় নিয়ে রাত কাটান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেসময় শূন্যরেখা থেকে তাদের কান্নার শব্দও শোনা গিয়েছিল।
