ধান চাষ করে খরচই উঠছে না, দুশ্চিন্তায় বিলাঞ্চলের কৃষক
মো. আবদুস সালাম তালুকদার, গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
দিনে মেঘের লুকোচুরি, রাতে দুই-এক দিন পরপর বৃষ্টি- এমন অনিশ্চিত আবহাওয়ার মধ্যে বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বিলাঞ্চলের কৃষকরা। শ্রমিক সংকট ও বাড়তি খরচের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বোরো ধানই সারা বছরের প্রধান ভরসা। কিন্তু চলতি মৌসুমে ফসল ঘরে তুলতে গিয়ে বাড়তি খরচ ও পরিবহন সংকটে অনেকেরই লোকসানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের দাবি, পুনর্ভবা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ না হওয়া এবং নদী খনন না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও আগাম বৃষ্টিতে রাধানগর ইউনিয়নের কুজনঘাট বিলাঞ্চলের প্রায় হাজার বিঘা জমি প্লাবিত হয়। এতে আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হন কৃষকরা।
সরেজমিনে কুজনবিল, বড় বিলাঞ্চল ও চুরইল বিলাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, আগাম বৃষ্টির কারণে পুরো উপজেলাজুড়ে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ছোট কৃষকদের ২-৩ বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা প্রতিদিন ১ হাজার টাকা মজুরি ও খাবারের শর্ত দিচ্ছেন।
অন্যদিকে ধান পরিবহনের খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। গত বছর ট্রাক্টরে এক ট্রলি ধান পরিবহনে যেখানে ১ হাজার টাকা লাগত, এবার সেখানে গুনতে হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। পাওয়ার টিলারের ভাড়াও বেড়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, জমি থেকে নৌকা, নৌকা থেকে ট্রাক্টর- এভাবে বারবার ধান ওঠানামার কারণে অনেক ধান নষ্ট হচ্ছে। এতে বিঘাপ্রতি উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ১৫-১৬ মণে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট আবাদি জমি ২৩ হাজার ৬৬৩ হেক্টর। এর মধ্যে বোরো আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৮৩৫ হেক্টরে। প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি বিলাঞ্চলের আওতায়। এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ ধান মাঠে রয়েছে।
কুজনবিলের কৃষক মুক্তার হোসেন বলেন, “ধান চাষ থেকে ঘরে তুলতে বিঘাপ্রতি ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। উৎপাদন পাচ্ছি ১৫ থেকে ১৬ মণ। এবার বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা লোকসান হবে।”
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাকলাইন হোসেন বলেন, “শ্রমিক সংকট নিরসনে পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে শ্রমিক আনা হচ্ছে। তবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বাড়ানো, ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার সরবরাহ এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”
