ফুলজোড় নদীর কচুরিপানায় নতুন আকর্ষণ
মো. পারভেজ সরকার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় ফুলজোড় নদীর একটি অংশে জমে থাকা বিশাল কচুরিপানার স্তূপ এখন দর্শনার্থীদের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। তবে স্থানীয়দের মধ্যে দুর্ঘটনার শঙ্কাও বাড়ছে।
নদীর মাঝামাঝি অংশজুড়ে বিস্তৃত কচুরিপানার ওপর গড়ে উঠেছে অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ দোকান। সেখানে চা, চানাচুর, ফুচকা ও বিভিন্ন খাবার বিক্রি হচ্ছে। এসব ঘিরেই এলাকায় তৈরি হয়েছে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে বিপুল কচুরিপানা এক জায়গায় জমে বড় আকার ধারণ করে। পরে কিছু স্থানীয় ব্যবসায়ী সেখানে দোকান বসান। বিষয়টি এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করলে ধীরে ধীরে তা দর্শনার্থীদের ভিড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বিকেল হলেই নদীর দুই পাড় ও কচুরিপানার স্তূপজুড়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়ে। শিশু-কিশোরদের খেলা, তরুণদের ছবি ও ভিডিও ধারণ, পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা—সব মিলিয়ে এলাকাটি এখন অস্থায়ী বিনোদনকেন্দ্রের রূপ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় কৌতূহল আরও বাড়ছে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, এই আকর্ষণের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে। কচুরিপানার নিচে নদীর গভীরতা বোঝা যায় না এবং পানির প্রবাহও অদৃশ্য থাকায় অসতর্কতায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম দলু বলেন, নদীতে এমন কচুরিপানার স্তূপ আগে দেখা যায়নি। তাই আশপাশের এলাকা থেকেও মানুষ এটি দেখতে আসছেন।
ছাত্রনেতা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এটি যেমন বিনোদনের জায়গা হয়ে উঠেছে, তেমনি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। অতিরিক্ত মানুষের ভিড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্বেচ্ছাসেবী আল আমিন বলেন, কচুরিপানার নিচে পানির গভীরতা বোঝা যায় না। তাই সতর্ক না থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সবাইকে সাবধানে চলাচল করা উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সিয়াম বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ জরুরি। পাশাপাশি জননিরাপত্তায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
