গ্রামের বাড়িতে দাফন হলো ফ্লোরিডায় খুন হওয়া বৃষ্টির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামে তার লাশ সমাহিত করা হয়।
শনিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়।
দুপুর দেড়টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বৃষ্টির নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীরা লাশ দেখার জন্য ভিড় করেন।
মেয়ের শোকে তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি আহাজারি করে বলছিলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেল? এখন আমি কাকে নিয়ে থাকবো? আমার বৃষ্টিকে তোমরা ফিরিয়ে দাও।’
বাদ আসর চরগোবিন্দপুর উত্তরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তারই পরিকল্পনা ও ভাইয়ের করা নকশায় নবনির্মিত বাড়ির পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘ঈদে গ্রামে এসে যেন সবাই একসঙ্গে থাকতে পারি, সেজন্য বৃষ্টির পছন্দের নকশায় বাড়িটি করেছিলাম। জুলাই মাসে দেশে এসে তার এই বাড়িটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু আমার মা বাড়ি উদ্বোধন না করে পরপারে চলে গেলো। এখন এই বাড়িতে আমি কীভাবে থাকব?’
তিনি জানান, ‘বৃষ্টি সবসময় বলতো, পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে আসবে এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে দেশের জন্য নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে। এখন বৃষ্টির বাবার একটাই দাবি, হত্যাকারীর যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।’
বৃষ্টির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘বৃষ্টি উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে দেশের উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারতেন। তাকে যে বা যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাস মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। যেকোনও প্রয়োজনে প্রশাসন বৃষ্টির পরিবারের পাশে রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। পরে ২৪ এপ্রিল লিমনের এবং ২৬ এপ্রিল বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ৪ মে লিমনের লাশ দেশে এনে সমাহিত করা হয়েছে।
