সাবের হোসেন চৌধুরী : বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে গড়ি সোনার বাংলা
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কাগজ প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের ঢাকা-৯ আসনের সাংসদ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ধরনের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটি গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ সমৃদ্ধ প্রগতিশীল, ধর্মনিরপক্ষ ও গণতন্ত্রের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। যদি সবাই মিলে সেটি করতে পারি, তাহলেই বঙ্গবন্ধুকে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে শ্রদ্ধা জানানো হবে। তাই আসুন, বঙ্গবন্ধুকে সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা জানাতে সবাই মিলে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলি।
বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল-আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খান মো. মামুন রশিদ (শুভ্র), ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওয়াহিদুল হাসান মিল্টনসহ থানা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সাবের হোসেন চৌধুরী খিলগাঁও মডেল কলেজের ৮তলা বিশিষ্ট আইসিটি ভবন পরিদর্শন করেন এবং কলেজপ্রাঙ্গণে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সমস্ত বিশ্ব বঙ্গবন্ধুকে মহান বলার একটাই কারণ, তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেননি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সব ধরনের কাজ করে গেছেন। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসোপানে চড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে, সেটিসহ বাংলাদেশের পরিকল্পনা দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি সবই বঙ্গবন্ধু রচনা করে গেছেন। তার ছক অনুযায়ীই বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তার ছক অনুযায়ী গোটা জাতিকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছিলেন। এর পেছনে তার সাহস ও দূরদর্শী চিন্তা কাজ করেছে। পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থা প্রত্যাখান করে বঙ্গবন্ধু বিকল্প শাসন ব্যবস্থা দিয়েছেন। পাকিস্তানের জাতীয়বাদ ছিল ধর্মের ওপর ভর করে, সেখানে ভাষা ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তখন এক ধরনের ধর্মীয় উন্মাদনা ছিল। সেটাকে কাজে লাগিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, সব ধর্মের সমান অধিকার। কারণ, তিনি জানতেন আমাদের মধ্যে বিভাজনের যে সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো যদি দূরে রাখা যায়, জাতি গঠন ও জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে একটি প্ল্যাটফর্ম করতে পারবেন। একটা বক্তব্য (৭ মার্চ) কীভাবে বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করেছে তা সবারই বোধগম্য। ওই বক্তব্যের পরই সবাই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুধু স্বাধীনতা নয়, বঙ্গবন্ধুর মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালির জাতির অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিকসহ সার্বিক মুক্তি। এই সার্বিক মুক্তির পূর্বশর্ত হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা। যেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করে যাচ্ছেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু সংবিধান ও পতাকা দিয়েছেন। বাঙালি হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তার চিন্তা ছিল বাঙালি হিসেবে আমরা গবেষণা-সংস্কৃতি-খেলাধুলা-বিজ্ঞান প্রযুক্তির সব ক্ষেত্রে সেরা হব। সেটার নমুনাও আমরা দেখতে পাচ্ছি। দেশ সবক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। যার মধ্যে একটি উদাহরণ হচ্ছে এই খিলগাঁও মডেল কলেজ। স্বাধীনতার পরে যখন অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল তখন বঙ্গবন্ধু এই মডেল কলেজের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। চিন্তা করলে দেখা যাবে, স্বাধীনতার পরে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, যার ব্যাংকের রিজার্ভে টাকা নেই, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই কঠিন সে অবস্থায় শিক্ষার কথা ভেবেছেন। এই প্রতিষ্ঠান ঘিরে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল তার সবই করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা হয়তো প্রতিষ্ঠানের কাঠামো উন্নত করে দিতে পারি, কিন্তু কাজ করতে হবে শিক্ষকদের। তাদের যদি কোনো কষ্টের জায়গা থাকে, চাহিদার জায়গা থাকে তাহলে স্বচ্ছ ধারণা পেতে চাই। কলেজটির শিক্ষার মান আরো বাড়ানোর শর্তে আমরা তাদের দাবিগুলো পূরণ করব। আমি চাই, আমার নির্বাচনী এলাকা স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলতে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব বিষয়ে এই এলাকার মানুষের বাইরে কোথাও যেতে হবে না। জোর দেয়া হবে কারিগরি শিক্ষাতেও। ক্লাস না হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ই-লার্নিং ব্যবস্থা চালুর ইঙ্গিত দেন সাবের হোসেন চৌধুরী।
