ডিএমপি কমিশনার : স্মার্টকার্ড লাইসেন্সের প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ থাকলে মামলা নয়

আগের সংবাদ

ইইউ-চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের অঙ্গীকার > ৫০ বছরেই ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ : এক হাজার কোটি ডলার তহবিলের নিশ্চয়তা, উষ্ণতা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা

পরের সংবাদ

এমডি-চেয়ারম্যানসহ আটক ৩ : ইপিসি গেøাবাল হাতিয়েছে গ্রাহকের ২ কোটি টাকা

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর বাড্ডা থেকে ইপিসি গেøাবাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যানসহ ৩ জনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আটককৃতরা হলেন- এমডি মো. শাহিন মিয়া, চেয়ারম্যান মো. জুয়েল ও অর্থ পরিচালক মো. সাদ্দাম হোসাইন। গত সোমবার রাতে কোম্পানিটির অফিসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। র‌্যাব বলছে, কোম্পানিটি অনলাইনে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কার্যক্রম পরিচালনা করে অতি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
র‌্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (অপস ও ইন্ট শাখা) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস জানান, কোম্পানিটি ইপিসিলাইট.কম ও ইপিসিপ্রোবিডি.কম নামে দুটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোম্পানিটির অফিসে অভিযান চালিয়ে এমডি-চেয়ারম্যানসহ ৩ জনকে আটক করা হয়। ওই অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, বিরিয়ানি ও খিচুড়ির গুঁড়া মশলা, চটকদার বিজ্ঞাপনের কপি, কোম্পানিটির নিত্যপণ্যের প্যাকেজ মূল্যসহ তালিকা, ইপিসি গেøাবাল লিমিটেডের ল্যান্ড প্রজেক্টের চটকদার বিজ্ঞাপনের কপি, আমানত আদায়ের মুড়ি বই, কম্পিউটার ও ৬টি মোবাইল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, তাদের ই-কমার্স আইটি নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। ওই লাইসেন্সের আড়ালে তারা এমএলএম ব্যবসা অনুসরণ করে ইপিসি কোম্পানি লিমিটেডের মোড়কে বিএসটিআইর অনুমোদনহীন নিম্নমানের বিভিন্ন গুঁড়া মশলা, দারুচিনি, এলাচি, কিশমিশ, লবণ, টুথ ব্রাশ-চায়না, সেভ ওয়েট গ্রোথ-ন্যাচারাল প্রোটিন পাউডার, ক্যালসিয়াম+ডি (ক্যাপসুল), ওমেগা৩-৬-৯ (ক্যাপসুল), ক্যালসিয়াম ডি (ক্যাপসুল), ডিক্টামনি-এন্টিবায়োটিক ক্রিম, সেভ টক্সিন ফাশ (হারবাল শরবত), এরাবিয়ান গাওয়া কফি, সেভ প্রোটিন প্লাস (প্রোটিন ফুড), ড্রিম ভ্যালি (লিকুইড ডিটারজেন্ট), বাথিং জেল (গোসলের লিকুইড সাবান), পানির ফিল্টারসহ ২১ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে। বাস্তবে এসব পণ্যের কোন মজুত তাদের কাছে নেই। গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যেই এসব চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।
এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের দুটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট প্রতারণার আরেকটি অভিনব ফাঁদ। কোনো গ্রাহক ১৩৫০ টাকা বিনিয়োগ করলে ওই ওয়েবসাইটে তার নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হতো এবং প্রতিদিন ১৫ টাকা হারে লভ্যাংশ তার হিসাবে জমা হতো। ওই গ্রাহককে একটি পিন নম্বর দেয়া হয়, যাতে ওই গ্রাহক নিজেই তার লেনদেনের তথ্য দেখতে পারেন। এভাবে ৫০০ টাকা লভ্যাংশ জমা হলে কোনো গ্রাহক তার জমা উত্তোলন করতে পারতেন। এই প্রলোভনে পড়ে অনেক গ্রাহক তার নিকটাত্মীয়দের ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেন এবং নিজেও অধিক লাভের আশায় ২০০-৩০০ অ্যাকাউন্ট খোলেন। কিন্তু লভ্যাংশ উত্তোলনের সময় ওই টাকা থেকে ১০ শতাংশ অফেরতযোগ্য চার্জ এবং কেনাকাটার জন্য আরো ১০ শতাংশ কর্তন করা হতো। এভাবে গ্রাহক যখন তাদের প্রতারণা বুঝতে পেরে আমানত ফেরত চাইতেন, তখন তারা ওই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ওয়েবসাইট থেকে মুছে দিতেন এবং তার সব আমানত জমার বিষয়টি অস্বীকার করতেন।
র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, আটককৃতরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এমডি শাহিন ও চেয়ারম্যান জুয়েল আগে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানিতে সেলস ম্যানেজার ও সাদ্দাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সূত্রে তাদের একে অপরের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস। স্বল্প সময়ে বিনা পুঁজিতে অধিক অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে তারা এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে অতি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কোম্পানিতে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করতেন। পরবর্তী সময়ে ব্যবসায় লোকসানের অজুহাতে তাদের লভ্যাংশ ও আসল পরিশোধে অনীহা দেখাতেন। এভাবে চক্রটি লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম কার্যক্রম পরিচালনা করে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ১০ হাজার গ্রাহকের দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় এমএলএম আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়