রাজধানীতে ৩ দিনব্যাপী ঈদ উৎসব পালন করবে এনসিপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আয়োজনটির অংশ হিসেবে ঈদের দিন অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য ঈদের মিছিল।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ আয়োজন বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি এবং কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: এক উপজেলায় এনসিপির সব নেতাকর্মীর পদত্যাগ, নেপথ্যে কী
নাগরিক উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে সর্বসাধারণের আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যে কোনো তরুণ এই আয়োজনে যুক্ত হতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন আয়োজকরা।
আয়োজকরা জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজধানীতে আবারও শুরু হয় ঈদের মিছিল। গত বছর রাজধানীর ঈদ মিছিলে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে নতুন মাত্রা দেয়।
মিছিল শহরের সড়ক অতিক্রম করার সময় পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হন। শিশু, তরুণ ও প্রবীণসহ নানা বয়সী মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাস্তায় নেমে আসেন। পুরো শহর উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে।
তবে এবার শুধু ঈদের দিন মিছিলই নয়, ঈদের আগের দিন থেকে টানা তিনদিন ধরে চলবে এই ঈদ উৎসব।
ঈদের আগের দিন চাঁদ রাতে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজন করা হবে মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে নাগরিকদের যে কেউ এই মেহেদি উৎসবে অংশ নিতে পারবেন। চাঁদরাতে চলবে ঈদের গান, কবিতা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন।
ঈদের দিন সকাল ১০টায় জাতীয় ঈদগাহ (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ) থেকে শুরু হবে বর্ণাঢ্য ঈদের মিছিল। ঈদের নামাজের পর রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে নাগরিক উদ্যোগে ঝটিকা মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত স্থানে জড়ো হবেন।
মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে দিয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ঝটিকা মিছিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ মিছিলকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহ্য অনুযায়ী ঈদের মিছিলে থাকবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি, প্ল্যাকার্ড, হাতি ও ঘোড়ার গাড়িসহ নানা আকর্ষণ। শিশু-কিশোরদের আগ্রহী করতে মিছিলের বড় একটি অংশজুড়ে থাকবে ‘কিডস জোন’।
ঈদের পরদিন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হবে ঘুড়ি উৎসব। ঢাকার প্রাচীন এই ঘুড়ি উৎসবকে ঈদ উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
