মস্কোতে খলিলুর-লাভরভ বৈঠক
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাশিয়ার সহযোগিতা কামনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া সফররত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সোমবার (৮ জুন) মস্কোয় তারা এই বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে লাভরভ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমরা জাতিংসঘ অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছি এবং জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা পুনরুদ্ধারে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি।
রুশ কর্মকর্তা আরও জানান, আগামী জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-রাশিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, সামরিক ও প্রযুক্তিগত খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটি আমার প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। আমার প্রার্থীতায় রাশিয়ার সমর্থন ও সহায়তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
তিনি উল্লেখ করেন, ৪০ বছর আগে তিনি রুশ প্রতিনিধির সঙ্গে জাতিসংঘে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, যা ছিল আরও সহজ ও অনুমেয় সময়। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অশান্ত এবং উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে খলিলুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব খুব একটা সহজ হবে না।’
তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও প্রধানমন্ত্রী মিশুস্তিনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাই রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পক্ষে। রাশিয়া খুব অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে এগিয়ে এসেছিল। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আপনার সময়োচিত হস্তক্ষেপ ছাড়া আমাদের সংগ্রাম ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারতো।’
ড. খলিলুর আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর রুশ নৌবাহিনী চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নাবিক বিস্ফোরক অপসারণে সহায়তা করেছিল এবং সে সময় এক রুশ সেনা সেদেশে প্রাণ হারান। বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষায় ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতার অন্যতম স্মারক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আমরা সম্প্রতি প্রথম জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করেছি এবং আশা করি শিগগির এটি চালু হবে।’
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
গত রোববার (৭ জুন) তিন দিনের সফরে রাশিয়া যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সূত্র: ডিআরএম নিউজ
