ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক ‘চারিত্রিক দোষ’ নয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
ছবি : ফাইল ফটো
বিয়ের আগে প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যে সম্মতিপূর্ণ শারীরিক সম্পর্ককে চারিত্রিক দোষ হিসেবে গণ্য করা যাবে না- এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তেলেঙ্গানার এক পুলিশ কনস্টেবল প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে গিয়ে আদালত এই মন্তব্য করেন।
বিচারপতি মনমোহন ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ বলেছে, সব সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে হয় না। তাই কোনো সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি বলেই কাউকে প্রতারক বা চাকরির জন্য অনুপযুক্ত মনে করা যাবে না।
মামলাটি স্টাইপেন্ডিয়ারি ক্যাডেট ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল পদে নির্বাচিত এক প্রার্থীকে নিয়ে। তেলেঙ্গানা স্টেট লেভেল পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড তাঁর নিয়োগ বাতিল করে। কারণ, ২০১৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। পরে ২০১৫ সালে লোক আদালতে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি হয়। প্রার্থী আবেদনপত্রে মামলার বিষয়টি উল্লেখও করেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে জানায়, ‘দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত মানুষের সম্মতিতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ককে কারও চরিত্র সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির কারণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। আইনেও এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই যে দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত ব্যক্তি নিজেদের পছন্দমতো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন না।’
আদালত আরও স্পষ্ট করে বলে, ‘সব সম্পর্ক বিয়েতে পৌঁছায় না। তাই শুধু সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে বিয়ে না হওয়ায় এক পক্ষ অন্য পক্ষকে প্রতারণা করেছে- এমন বিশ্বাস করার কোনো ভিত্তি নেই।’
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত মামলা লোক আদালতে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার অর্থ যে অভিযুক্তের দোষ স্বীকার করা, তা নয় বলেও জানিয়েছে আদালত। রায়ে বলা হয়, কোনো ফৌজদারি মামলা সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বলেই নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতে পারে না। তবে যদি প্রমাণ থাকে যে অভিযোগকারীকে জোর করে সমঝোতায় বাধ্য করা হয়েছিল, তখন বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।
এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের পেছনে যুক্তি ছিল- এই মামলা তার নৈতিক চরিত্রে প্রশ্ন তোলে। তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিলেও বোর্ড আবার নিয়োগ বাতিল করে। একক বেঞ্চ পুনরায় তাকে নিয়োগ দিতে বললে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সেই আদেশ বাতিল করলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান।
বর্তমানে এ ধরনের সম্পর্ক ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পর্ক থাকলে সেখানে বৈধ সম্মতির ধারণা তৈরি হয়। এই মামলায় প্রার্থী ও অভিযোগকারী প্রতিবেশী এবং বহু বছর ধরে একে অপরকে চিনতেন। সমঝোতা করানোর জন্য বলপ্রয়োগ, হুমকি বা জবরদস্তির কোনো প্রমাণ নথিতে নেই।
অভিযোগটি প্রতারণাসংক্রান্ত উল্লেখ করে আদালত পর্যবেক্ষণ দেয়, ‘অভিযোগকারী সম্পর্কটিতে প্রতারিত হয়ে জড়িয়েছিলেন কি না, তা একমাত্র তিনিই জানাতে পারতেন। সাধারণ মানুষ তা বলতে পারে না।’ যেহেতু অভিযোগকারী মামলা এগিয়ে নিতে চাননি ও সমঝোতায় সম্মতি দিয়েছিলেন, তাই প্রার্থীর চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় চরিত্র নেই- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো ভিত্তি বোর্ডের ছিল না বলে মন্তব্য করে আদালত তাঁর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন।
সূত্র: এনডিটিভি
