চামড়া সংগ্রহ চললেও দামে অসন্তুষ্ট মৌসুমি ব্যবসায়ীরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সংগৃহীত চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন বিক্রেতারা। ভ্যানগাড়িতে চামড়া সাজাতে সাজাতে এক ফড়িয়া নিজের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘একেবারে এক নম্বর জিনিস এগুলো। চামড়াগুলো খুলে দেখলেই বুঝবেন, বড় গরুর কত ফ্রেশ চামড়া! কেনার পর চারজনে মিলে ধরাধরি করে ভ্যানে তুলেছি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সংগ্রহ করা এই মাল, ভালো দাম না পেলে এবার হাতছাড়া করব না।’
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ১টার দিকে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের অদূরে মৌসুমি এক চামড়া বিক্রেতা আগত দুই তরুণের কাছে এভাবেই কোরবানির গরুর চামড়ার বর্ণনা দিচ্ছিলেন।
দুই তরুণ প্রতিটি চামড়ার দাম ৬০০ টাকা হাঁকলে, হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে ‘না’ বলে দেন তিনি। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মঈন আলী নামের ওই বিক্রেতা জানান, প্রতিটি চামড়া তিনি নিজেই ৭০০ টাকা করে কিনেছেন। তাই কোনোভাবেই এক হাজার টাকার নিচে এগুলো বিক্রি করবেন না।
এদিকে আজ দুপুর থেকেই সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ও এর আশপাশের এলাকায় কোরবানির চামড়া কেনাবেচা শুরু হয়। বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষকেরা রিকশা ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে করে চামড়া বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। পাশাপাশি কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী (ফড়িয়া) পাড়া-মহল্লা থেকে ৫ থেকে ১০ পিস করে চামড়া কিনে বাড়তি লাভের আশায় এখানে জড়ো হন। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত দামে বনিবনা না হওয়ায় দুপুর গড়িয়ে গেলেও কেনাবেচা তেমন একটা জমেনি।
বিক্রেতারা বলছেন, ‘তারা বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, তারপর লাভ-লোকসানের কথা চিন্তা করবেন।’
রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে দুই চামড়া বিক্রেতাকে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত ভঙ্গিতে বনরুটি খেতে দেখা যায়। ছোট-বড় মিলিয়ে তারা মোট ২২টি চামড়া বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় গরুর চামড়া প্রতিটি ১ হাজার ১০০ টাকা এবং ছোট গরুর চামড়া প্রতিটি ৮০০ টাকা দরে বিক্রির আশা করছেন তাঁরা।
তবে বাজারের চিত্র উল্টো; ক্রেতারা বড় চামড়ার দাম ছোট চামড়ার চেয়েও কম হাঁকছেন। শাহ আলম নামের এক বিক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গড়ে প্রতিটি চামড়ার দাম অন্তত ১ হাজার ১০০ টাকা না পেলে তারা এগুলো কোনোভাবেই হাতছাড়া করবেন না।
