রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক
বাতিল হচ্ছে এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সংসদ সদস্যদের (এমপি) শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে দ্য মেম্বার্স অব দ্য পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে অর্থ বিভাগ। এটি অনুমোদনের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার সম্মতি মিললে তা বিল আকারে সংসদে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তারা জানান, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরে বিশেষ সুবিধা কমিয়ে আনা এবং কর ব্যবস্থায় সমতা নিশ্চিত করতেই এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে—সংসদ সদস্যদের পারিতোষিক ও ভাতাদি দ্য মেম্বার্স অব দ্য পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এই আইনের আওতায় তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা ভোগ করেন। জনগণের সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হলেও আইনি সুবিধা নিয়ে তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করেন, যা একদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অন্যদিকে কর প্রদানে জনগণের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করে। এ প্রেক্ষাপটে সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জনমতের ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির প্রস্তাব আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠছে।
এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই জনপ্রতিনিধিদের জন্য কোনো অতিরিক্ত সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতাসংক্রান্ত ১৯৭৩ সালের আদেশ অনুযায়ী এই সুবিধা বাতিলের জন্য আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাজেটে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব দিলেও সংসদ সদস্যদের আপত্তির কারণে তা পাস হয়নি।
বর্তমানে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে একটি গাড়ি—কার, জিপ বা মাইক্রোবাস—শুল্ক, ভ্যাট, ডেভেলপমেন্ট সারচার্জ এবং আমদানি অনুমতি ফি ছাড়া আমদানি করতে পারেন।
অন্যদিকে সাধারণ আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং ৪০০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্কসহ বড় অঙ্কের কর পরিশোধ করতে হয়।
১৯৮৭ সালে এরশাদ সরকারের সময় চালু হওয়া এই সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যের গাড়িতে করছাড় দেওয়ায় সমালোচিত হয়ে আসছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই সুবিধার আওতায় সংসদ সদস্যরা ৫৭২টি গাড়ি আমদানি করেছেন। এসব গাড়ির শুল্কমূল্য ছিল প্রায় ৩.৯৭ বিলিয়ন টাকা, আর রাজস্ব ছাড়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অন্তত ৫১.৪৭ বিলিয়ন টাকা।
১২তম সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর ৩০টি শুল্কমুক্ত গাড়ি ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দেয় এনবিআর। পরে সেগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি যানবাহন পুলে যুক্ত করা হয়। এসব গাড়ির বিপরীতে বকেয়া শুল্ক ও করের পরিমাণ ছিল প্রায় দুই হাজার ছয়শ নব্বই কোটি টাকা। প্রতিটি গাড়ির কর দায় ছিল প্রায় ৮ কোটি ৬২ লাখ থেকে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার মধ্যে।
